একই ফান্ডে লাখ লাখ টাকার ফারাক! ডাইরেক্ট নাকি রেগুলার মিউচুয়াল ফান্ডের কোন প্ল্যানে বেশি লাভ?

একই মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম, একই ফান্ড ম্যানেজার এবং সম্পূর্ণ এক হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র ডাইরেক্ট এবং রেগুলার প্ল্যানের পার্থক্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নে লক্ষ লক্ষ টাকার তফাত হতে পারে। আর এই বিশাল ব্যবধানের নেপথ্যে রয়েছে মূলত ‘এক্সপেন্স রেসিও’ বা পরিচালনার খরচ। রেগুলার প্ল্যানে পরিবেশক বা মধ্যস্বত্বভোগীকে কমিশন দিতে হয় বলে এর এক্সপেন্স রেসিও ডাইরেক্ট প্ল্যানের তুলনায় সাধারণত প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ থেকে এক শতাংশ পর্যন্ত বেশি থাকে।
ডাইরেক্ট বনাম রেগুলার প্ল্যানের পার্থক্য:
ডাইরেক্ট প্ল্যানের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা এএমসি-র (AMC) মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। এখানে কোনো ডিস্ট্রিবিউটার কমিশন না থাকায় মোট এক্সপেন্স রেসিও বা টিইআর (TER) তুলনামূলক বেশ কম হয়। অন্যদিকে, রেগুলার প্ল্যানে বিনিয়োগ করতে হয় দালাল, ডিস্ট্রিবিউটার বা ব্যাঙ্ক রিলেশনশিপ ম্যানেজারদের মাধ্যমে। এএমসি তাঁদের যে কমিশন প্রদান করে, তার পুরো খরচটিই মূলত বেশি এক্সপেন্স রেসিও-র মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর তহবিল থেকেই কেটে নেওয়া হয়।
শুনতে ১ শতাংশ পার্থক্য খুবই সামান্য মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে চক্রবৃদ্ধি সুদের বা কম্পাউন্ডিংয়ের জাদুতে এই সামান্য তফাতই এক বিরাট অঙ্কে পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিনিয়োগকারী যদি প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে টানা ২০ বছর এসআইপি (SIP) করেন, তবে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪ লক্ষ টাকা। ডাইরেক্ট প্ল্যানে বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন পেলে ২০ বছর শেষে সুদে-আসলে মোট তহবিলের পরিমাণ প্রায় ৯১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা হতে পারে। অথচ একই বিনিয়োগে রেগুলার প্ল্যানে অতিরিক্ত খরচের কারণে সেই তহবিল কমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকায়।
অর্থাৎ, এই দুই প্ল্যানের মধ্যে মোটের ওপর পার্থক্য প্রায় ১০ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আলাদা করে কোনো বিল বা ফি হিসেবে দিতে হয় না, বরং প্রতি বছর ১ শতাংশ বেশি এক্সপেন্স রেসিও কাটার ফলে তা পরোক্ষভাবে ডিস্ট্রিবিউটরের পকেটে যায়। এর জেরে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকা অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। বিনিয়োগের প্রথম কয়েক বছর এই তফাত খুব একটা চোখে না পড়লেও সময় যত এগোয়, ব্যবধান তত দ্রুত বাড়তে থাকে এবং দীর্ঘ মেয়াদে তা বড় আর্থিক ধাক্কা দিতে পারে। তাই মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সময় শুধু সম্ভাব্য রিটার্ন নয়, এক্সপেন্স রেসিও খতিয়ে দেখাও অত্যন্ত জরুরি।