২২,০০০ কোটির লোন মকুব বিতর্ক! সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি এসেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের

২২,০০০ কোটি টাকার ঋণ মকুবের প্রসঙ্গ ঘিরে সম্প্রতি যে সমস্ত প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে মুখ খুললেন এসেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গোটা পরিস্থিতির সত্যতা সর্বসমক্ষে আনতে এবার একটি স্বাধীন বা নিরপেক্ষ অডিটের দাবি তুলেছেন এই শিল্পপতি।

সুভাষ চন্দ্রের দাবি, তাঁদের গ্রুপের মোট ৪৫,০০০ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৩,০০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে এবং কোথায় কোথায় ডিফল্ট হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতাররমণ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার কাছে একজন স্বাধীন ऑडिटर বা নিরপেক্ষ auditor নিয়োগ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ

সংস্থার আর্থিক সংকট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি নাগাদ তাদের গ্রুপ বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। মূলত সম্পত্তি এবং দেনার পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় ব্যাংকিং ব্যবস্থার কাছে একটি খোলা চিঠি লিখে নিজের ভুল স্বীকার করার পাশাপাশি সমস্ত ঋণ মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে তাঁকে পরিবারের সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে, এমনকি নিজের বাড়ি পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল। এমনকী জি (Zee) সংস্থাও বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

বর্তমানে মাত্র প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার ঋণ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে পরিকাঠামো বা ইনফ्राস্ট্রাকচার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পাওনা টাকা না মেলায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তবে খুব শীঘ্রই বাকি সম্পত্তি বিক্রি করে এই বকেয়া টাকাও মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

NCLT মামলা নিয়ে কী বললেন?

ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল বা NCLT-এর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে সুভাষ চন্দ্র স্পষ্ট জানান যে, এই আইনি লড়াই তাঁর ব্যক্তিগত ঋণের সঙ্গে যুক্ত নয়, বরং কিছু ব্যাংককে দেওয়া ব্যক্তিগত গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, প্রায় ৬২০ কোটি টাকার দাবি ইতিমধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও NCLT সম্প্রতি প্রায় ২২,০০৬ কোটি টাকার দাবির বিপরীতে মাত্র সাড়ে ছয় কোটি টাকার পেমেন্ট পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আপিল করার কথা জানিয়েছে HDFC ব্যাংক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *