অন্য ছেলের সঙ্গে কথা বলাই কাল! ঘরে ঢুকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে কুপিয়ে খুন জিম ট্রেনারের

অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভের জেরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী তথা মডেলকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক জিম ট্রেনারের বিরুদ্ধে। নিহত তরুণী মুসকানের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধারালো অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির তিলক নগরে মুসকানের নিজের বাড়িতেই। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী জিম ট্রেনার ইমরানের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুসকান দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অফ ওপেন লার্নিং’-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংও করতেন। গত দেড় বছর ধরে ইমরানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। পুলিশের ধারণা, অন্য এক যুবকের সঙ্গে মুসকানের কথা বলা বা মেলামেশা পছন্দ করত না ইমরান। গত প্রায় দুই মাস ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে মুসকানের ওপর সে অসন্তুষ্ট ছিল এবং তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল।

তদন্তকারীদের অনুমান, গত বুধবার সন্ধ্যায় মুসকান বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে ইমরান। সিসিটিভি ফুটেজে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ অভিযুক্তকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখা গেছে। ঠিক কী কারণে তাদের মধ্যে বচসা শুরু হয়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইমরান ছুরি দিয়ে মুসকানের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ির পরিচারিকা দোতলায় মুসকানকে রক্তে ভেজা ও আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে খবর দেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে তিলক নগর থানায় পিআরসি কল আসে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মুসকানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই পুলিশকে জানিয়েছেন যে আকিব ওরফে ইমরান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। এদিকে মুসকানের বন্ধু আমান আগেই দাবি করেছিলেন যে ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মুসকানকে উত্যক্ত করত এবং পিছু ধাওয়া করত। এমনকি এই হয়রানির কথা পরিবারকে জানানো হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও সঠিক পূর্বাপর খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ইমরানকে পাকড়াও করতে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *