সাংসদ না কি গ্যাংস্টার? ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড সরানোর জেরে ধুন্ধুমার কাণ্ড, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসিয়াল বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে রণক্ষেত্রের রূপ নিল তিলোত্তমা। বেআইনি বিলবোর্ড অপসারণ করতে গিয়ে পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা বাধার মুখে পড়ায় শুরু হয় চরম রাজনৈতিক তরজা। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ‘গুন্ডা’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
ক্যামাক স্ট্রিটে তুলকালাম পরিস্থিতি
নিয়ম মেনেই কলকাতা পুরসভার কর্মীরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে বিলবোর্ড খুলতে যান। অভিযোগ, বেআইনিভাবে এই হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল। কিন্তু পুরকর্মী ও পুলিশ সেখানে পৌঁছতেই শুরু হয় বাধা। খোদ তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন থেকে শুরু করে অভিষেক অনুগামীরা পথ আটকে দাঁড়ান। পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে তীব্র বচসা ও হাতাহাতি বেধে যায়। দফতরে জোর করে ঢুকে পড়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শেষ পর্যন্ত হোর্ডিংটি খুলে নামিয়ে দেয় পুরসভা। এই চরম বিশৃঙ্খলার জেরে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সুকান্ত মজুমদারের তীব্র আক্রমণ
এই ঘটনার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “উনি সাংসদ না গুন্ডা, সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজেকে অক্ষয় কুমার মনে করছেন নাকি? আর পাশে যে ষণ্ডামার্কা লোক আছে, সে কি নিজেকে সুনীল শেট্টি ভাবছে?”
সুকান্ত আরও বলেন, “বেআইনি কাজ করার পর উল্টে দাদাগিরি চলছে। হিন্দিতে একটা প্রবাদ আছে— ‘চুরি তো চুরি, আবার সিনাজুরি’, এখানে সেটাই হচ্ছে।”
আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল
এদিকে পুলিশ ও পুরসভার এই আচরণের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করেছে তৃণমূল। বিলবোর্ড খোলার এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতিদের নজরে এনে মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানান আইনজীবীরা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার এই মামলার নতুন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে চলেছে।