২৫ বছর চাকরি করলে প্রতি মাসে কত টাকা পেনশন পাবেন? রইল ঘরে বসেই হিসেব কলার সহজ ফর্মুলা!

বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মীদের অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। তবে অনেকেই জানেন না যে, ইপিএস (EPS) বা এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের আওতায় অবসরের পর প্রতি মাসে ঠিক কত টাকা পেনশন পাওয়া যেতে পারে। সঠিক নিয়ম ও সহজ ফর্মুলা জানা থাকলে ঘরে বসেই এই হিসেব কষে নেওয়া সম্ভব।
ইপিএফ এবং ইপিএস-এর হিসাবের অংক
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মীর বেসিক স্যালারি এবং মহার্ঘ ভাতার (DA) ১২ শতাংশ টাকা জমা হয় প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে। এর সমপরিমাণ অর্থ কোম্পানিও জমা করে থাকে। কোম্পানির দেওয়া এই ১২ শতাংশের মধ্যে ৮.৩৩ শতাংশ টাকা যায় ইপিএস (EPS)-এ এবং বাকি ৩.৬৭ শতাংশ জমা হয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টে।
মাসিক পেনশন বের করার ফর্মুলা
সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মাসিক পেনশন হিসেব করার নির্দিষ্ট ফর্মুলাটি হলো: মাসিক পেনশন = (পেনশনযোগ্য বেতন × চাকরির মোট সময়কাল) ÷ ৭০
এই হিসেব বোঝার জন্য মূলত দুটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি: ১. পেনশনযোগ্য বেতন: ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পেনশনের জন্য বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনার মূল বেতন ৩০,০০০ বা ৫০,০০০ টাকা হলেও পেনশনের হিসাবটি ১৫,০০০ টাকার উপরেই করা হবে। ২. চাকরির সময়কাল: পেনশন পাওয়ার জন্য অন্তত ১০ বছর চাকরি করা বাধ্যতামূলক। ২০ বছরের বেশি কাজ করলে চাকরির মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ বছর বোনাস হিসেবে যোগ হয়।
উদাহরণের সাহায্যে হিসাব
ধরে নেওয়া যাক, কোনো কর্মী ১৫,০০০ টাকা সর্বোচ্চ বেতনসীমায় টানা ২৫ বছর চাকরি করেছেন। তাহলে ফর্মুলা অনুযায়ী তাঁর মাসিক পেনশন হবে: (১৫,০০০ × ২৫) ÷ ৭০ = ৫,৩৫৭ টাকা (প্রায়)। সে হিসেবে বার্ষিক পেনশনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৪,২৮৪ টাকা।
তবে যাঁদের ‘হায়ার পেনশন অপশন’ (Higher Pension Option) বা উচ্চতর পেনশনের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ১৫,০০০ টাকার সিলিং প্রযোজ্য হয় না। তাঁদের আসল বেসিক স্যালারির উপর ভিত্তি করে মাসিক পেনশন হিসাব করা হয়, ফলে তাঁরা আরও বেশি অঙ্কের পেনশন পেয়ে থাকেন। অবসরের পর আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে চাকরির মেয়াদ দীর্ঘ করার পাশাপাশি এই নিয়মগুলি জেনে রাখা প্রতিটি কর্মীর জন্যই অত্যন্ত জরুরি।