জন্ম থেকেই নেই দুটো হাত! তবুও অনুষ্ঠান বাড়ির উদ্বৃত্ত খাবারে হাজারো ক্ষুধার্তের ‘মসিহা’ পুরুলিয়ার সুলভ

জন্ম থেকে দুটি হাত নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জীবনের বাধা না করে, অভাবের সংসারে লড়াই চালিয়ে বাণিজ্যে স্নাতক হয়েছেন পুরুলিয়া শহরের চাইবাসা রোডের বাসিন্দা সুলভ বুধিয়া। ইলেকট্রিকের ছোট একটি দোকান চালিয়ে বহু কষ্টে নিজের সংসার চালালেও, এলাকার অভুক্ত ও নিরন্ন মানুষের কাছে তিনি আজ সাক্ষাৎ ‘মসিহা’। বিগত আট বছর ধরে অনুষ্ঠান বাড়ির উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে এক অন্যরকম ‘রোটি ব্যাংক’ গড়ে তুলেছেন এই বিশেষভাবে সক্ষম যুবক।
ডাস্টবিনের দৃশ্য নাড়িয়ে দিয়েছিল মন
সুলভের এই মহৎ যাত্রার শুরুটা হয়েছিল একদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়। ছোট ছোট শিশুদের ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খেতে দেখে তাঁর মন কেঁদে ওঠে। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সাধ্যমতো এই ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর মুখে খাবার তুলে দেবেন। এরপর থেকেই শহরের যে কোনও প্রান্তে অনুষ্ঠান বাড়ি হলেই তিনি সেখানে পৌঁছে যান এবং আয়োজকদের অনুরোধ করেন অতিরিক্ত খাবার তাঁর হাতে তুলে দিতে। সেই খাবার তিনি তুলে দেন গরিব, অভুক্ত ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের আত্মীয়দের হাতে।
মুমূর্ষুর প্রাণ বাঁচানো থেকে হুইলচেয়ার বিতরণ
শুধু খাদ্য বিতরণেই থেমে থাকেননি সুলভ। সোশাল মিডিয়ায় ‘রোটি ব্যাংক’ নামে একটি গ্রুপ খুলে তিনি সাধারণ মানুষের থেকেও সাহায্য সংগ্রহ করেন। এছাড়াও মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি রক্তদান এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের হুইলচেয়ার বিতরণের মতো সমাজকল্যাণমূলক কাজেও তিনি সবসময় এগিয়ে থাকেন। তাঁর এই উদ্যোগে শুরু থেকেই ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর মা, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
প্রতিদিন শত শত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সুলভ বুধিয়ার এই অদম্য জেদ ও মানবসেবা আজ গোটা পুরুলিয়া জেলা তথা বাংলার মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস হয়ে উঠেছে।