১৫ বছরের জঞ্জাল সাফ! পঞ্চায়েত দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা এবং দুর্নীতির রেকর্ড সকলেরই জানা। পালাবদলের পর রাজ্যের নতুন সরকারে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বড়সড় প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটলেন দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি টিভি৯ বাংলার একটি মেগা কনক্লেভে যোগ দিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার করুণ হাল এবং তা থেকে উত্তরণের বড় পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।
দুর্নীতির আখাড়া ছিল পঞ্চায়েত
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দপ্তরের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, “গাড়ি কোনদিকে যাবে এবং এই সরকার কী চায়, মানুষ এখন তা বোঝার সুযোগ পাচ্ছে। তবে কাজ করতে হলে গত ১৫ বছরের জঞ্জাল সাফ করতে হবে। গর্বের পঞ্চায়েত দপ্তর একসময় দুর্নীতির আখাড়ায় পরিণত হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, দেশজুড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি হিংসার ঘটনার সাক্ষী থাকে বাংলা। এই ব্যাপক দুর্নীতির কারণে অতীতে কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজ (নারেগা) এবং আবাস যোজনার মতো দুটি বড় প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। গরিব মানুষের মাথার ছাদটুকুও লুট হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই বন্ধ কাজগুলি পুনরায় চালু করেছে এবং সমস্ত বাধা দূর করে উন্নয়নের রাস্তা পরিষ্কার করছে।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও আইন বদল
দুর্নীতি চিরতরে নির্মূল করতে পঞ্চায়েত আইনে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন দিলীপ ঘোষ। এতদিন পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকার কারণে তাঁরা নিজেদের “উপরে ভগবান, নীচে প্রধান” বলে ভাবতে শুরু করেছিলেন। সেই একপেশে ক্ষমতা এবং অর্থ খরচের একীভূত অধিকার অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, এই আইনি কড়াকড়ির ফলেই ভবিষ্যতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রক্তপাত ও মারামারি অনেক অংশে কমবে এবং দুর্নীতিপ্রবণ জায়গাগুলিতে সর্বক্ষণ কড়া নজরদারি রাখা হবে।