“চাঞ্চল্যকর তথ্য কখনও গভীর বিশ্লেষণের বিকল্প নয়!” অপারেশন সিঁদুর নিয়ে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াল কংগ্রেস

১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের আদলে এবার ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর পূর্ণাঙ্গ ও পদ্ধতিগত পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের জোরালো দাবি তুলল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহানের দেওয়া কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং সাম্প্রতিক মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এই আক্রমণ শানিয়েছে হাত শিবির। কংগ্রেসের সাফ কথা, বিচ্ছিন্ন সাক্ষাৎকার বা খণ্ডিত তথ্য কখনও গভীর ও কাঠামোগত বিশ্লেষণের বিকল্প হতে পারে না।
কংগ্রেসের আপত্তি ও দাবি
কংগ্রেস মুখপাত্র অভয় দুবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই কারগিল যুদ্ধ শেষ হওয়ার চার দিন পর বাজপেয়ী সরকার কে. সুব্রহ্মণ্যমের সভাপতিত্বে কারগিল পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছিল, যার রিপোর্ট ২০০০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময়ে ইন্টারভিউ বা বক্তৃতায় প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর তথ্য, তা কোনো পরিকল্পিত কৌশলের অংশ হোক বা না হোক, সুব্রহ্মণ্যম কমিটির মতো কোনো পদ্ধতিগত ও ব্যাপক পর্যালোচনার বিকল্প হতে পারে না।” একই সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও একটি স্বচ্ছ ও ব্যাপক পর্যালোচনার দাবি তুলেছেন।
প্রাক্তন সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান ঠিক কী বলেছেন?
গত ৩০ মে, ২০২৫ তারিখে সিঙ্গাপুরে এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এবং পরবর্তীতে মঙ্গলবারেও ‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন প্রাক্তন সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান। তিনি জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের কিরানা পাহাড়কে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেনি (যেখানে একটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে মনে করা হয়)। সারগোধায় বিপুল সংখ্যক লোইটারিং মিউনিশন পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে একটি হয়তো গতিপথ হারিয়ে একটি পাহাড়ে গিয়ে আঘাত হেনেছে। তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন তৎকালীন বিমানবাহিনীর মহাপরিচালক এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীও, যিনি গত বছর ১২ মে বলেছিলেন যে তাঁরা কিরানা হিলসকে লক্ষ্যবস্তু করেননি।
উল্লেখ্য, পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতে ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) অবস্থিত নয়টি জঙ্গি আস্তানার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করেছিল ভারত। এই সফল সামরিক অভিযানে শতাধিক সন্ত্রাসী খতম হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে এই বড় অভিযানের নেপথ্য কৌশল এবং তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে প্রাক্তন সিডিএস-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও জল্পনার সৃষ্টি করেছে।