রোগীকে নগ্ন করা, স্তনে হাত, কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে চরম লজ্জার ঘটনা!

স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ফের একবার মারাত্মক দুর্নীতির পাশাপাশি নিরাপত্তার ফাঁকফোকর ও শ্লীলতাহানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। কল্যাণীর কলেজ অব মেডিসিন এবং জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে কর্মরত এক রেসিডেন্সিয়াল মেডিক্যাল অফিসার বা আরএমও-র বিরুদ্ধে রোগীদের যৌন হেনস্থা করার মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খোদ সেই হাসপাতালেরই পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেনি বা পিজিটি চিকিৎসকরা। চিকিৎসার আড়ালে রোগীর শরীর নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পাশাপাশি এমার্জেন্সিতে অনুপস্থিতি এবং সহকর্মীদের নিয়ে কুৎসা রটানোর মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জমা পড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?

হাসপাতালের প্রিন্সিপালের কাছে পিজিটি চিকিৎসকদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই আরএমও নিজের পদের গণ্ডি লঙ্ঘন করে রোগী পরীক্ষার নামে জঘন্য আচরণ করেছেন। নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার নাম করে একাধিকবার রোগীর স্তনে হাত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকী, শারীরিক পরীক্ষার অজুহাতে এক রোগীর পরনের জামাকাপড় পর্যন্ত খুলিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু যৌন হেনস্থাই নয়, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগও তুলেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। জরুরি বা এমার্জেন্সির মতো সংকটজনক পরিস্থিতিতে তাঁকে বারবার ডেকেও পাশে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। এছাড়া সহকর্মী পিজিটি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে লাগাতার কুরুচিকর মন্তব্য ও কুৎসা রটানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

কী পদক্ষেপ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ?

দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক অভিযোগ উঠলেও এতদিন সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রমাণ না থাকায় কঠোর পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। অতীতে কয়েকটি ক্ষেত্রে মিটিং ডেকে অভিযুক্ত চিকিৎসককে সতর্ক করা হলেও তাঁর আচরণে বদল আসেনি। তবে চলতি বছরে পিজিটি চিকিৎসকরা একজোট হয়ে সরাসরি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. ধ্রুব সরকার জানান, তাঁর কাছে অভিযোগ জমা পড়ার পরই তিনি তা দ্রুত প্রিন্সিপালের কাছে পাঠিয়ে দেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সাক্ষ্যপ্রমাণের জন্য একাধিক ব্যক্তিকে তলব করা হয়েছে।

যদিও এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের জল শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যভবন পর্যন্ত গড়ায় কিনা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর কড়া কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *