KMC-তে TMC বিদায় সময়ের অপেক্ষা? জেনেনিন বিধানসভার রেজাল্ট কী বলছে?

মিশন নবান্ন পেরিয়ে এবার বিজেপির মূল লক্ষ্য ‘লালবাড়ি’। কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে। রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া এবং একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা বা দুর্নীতির অভিযোগে জেলের জাঁতাকলে পড়ার আবহে পুরভোট নিয়ে বড় দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সাফ ঘোষণা, আসন্ন পুরভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসে প্রথমবার ‘সনাতনী মেয়র’ পাবে কলকাতা।

বিধানসভার ফলাফলেই কি পুরভোটের ইঙ্গিত?

দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভা পুরোদস্তুর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই রয়েছে। ২০২১ সালের শেষ পুরভোটে ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪টি ওয়ার্ডেই জিতেছিল ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য দেখা গিয়েছিল সেই নির্বাচনে। এমনকি অতীতে বাম জমানাতেও কলকাতা কর্পোরেশনে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় ছিল।

তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। কলকাতার বুকে দীর্ঘদিনের একাধিপত্যে বড় ধাক্কা খেয়ে তৃণমূল মাত্র ৫টি আসনেই জয়ী হয়েছে। কলকাতা পুরসভা এলাকার অন্তর্গত ৩টি লোকসভা কেন্দ্রের মোট ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১১টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। ওয়ার্ড ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০১টিতেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, আর তৃণমূল পিছিয়ে মাত্র ৪৩টি আসনে। এই পরিসংখ্যান থেকেই রাজনৈতিক মহলে পুরভোটে পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতায় পুরভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ডিলিমিটেশন এবং আসন পুনর্বিন্যাসের প্রভাব

আসন্ন পুরভোটের আগে কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন বা পুনর্বিন্যাস একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রকাশিত নতুন খসড়া তালিকা অনুযায়ী, কলকাতার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে সোজা ২০৯টি হতে চলেছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১৫ থেকে ১৮ হাজার ভোটার পিছু একটি করে নতুন ওয়ার্ড বা বুথ তৈরি করা হবে।

তবে এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির। কসবা, তিলজলা, খিদিরপুরের মতো কিছু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা বাদ দিলে বাকি সর্বত্র তৃণমূলের ভরাডুবি হলেও বিরোধীরা সরকারের এই নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করে জানান, এর মাধ্যমে বিরোধীদের রুখতে শাসক দলের মতোই একই পথ অনুসরণ করছে বিজেপি। একই সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের ‘সনাতনী মেয়র’ মন্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এই ধরনের রাজনীতির লক্ষ্য সাধারণ মানুষের উন্নয়ন নয়।

সাম্প্রতিক অতয়ে মুম্বইয়ের বৃহন্মুম্বই কর্পোরেশন (BMC) কিংবা দীর্ঘ ৪০ বছরের বাম দুর্গ তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম দখল করে চমক দিয়েছে বিজেপি। এখন দেখার, কসবা বা খিদিরপুরের মতো নির্দিষ্ট কিছু পকেট বাদ দিয়ে কলকাতা পুরসভার লালবাড়ি আদৌ গেরুয়া শিবিরের দখলে যায় কিনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *