রাখির উইকেন্ডে ভিড় এড়িয়ে কোথায় যাবেন? রইল পকেটের মাপে সেরা কয়েকটি ঘোরার জায়গার হদিশ

চলতি বছর রক্ষা বন্ধন উৎসবটি শুক্রবার হওয়ায় তা একটি চমৎকার ‘লং উইকেন্ড’ বা টানা ছুটির সুযোগ এনে দিয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ত রুটিন থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে ভাই-বোনদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হয় না। আপনি যদি দিল্লিতে থাকেন, তবে সামান্য দূরত্বেই রয়েছে এমন কিছু দারুণ জায়গা, যেখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন এই ছুটির কদিনেই। ভাই-বোনের সঙ্গে উইকেন্ড ট্রিপে যাওয়ার মতো সেরা কয়েকটি জায়গার হদিশ রইল এখানে:
১. জয়পুর, রাজস্থান
দিল্লি থেকে গাড়ি বা বাসে জয়পুর পৌঁছতে সময় লাগে বড়জোর ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। ‘পিঙ্ক সিটি’ বা গোলাপি শহরের ঐতিহাসিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এটি আদর্শ জায়গা। এখানকার আমের ফোর্ট (Amer Fort), হাওয়া মহল, সিটি প্যালেস এবং নাহারগড় ফোর্টের মতো দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় এই স্থানগুলির রূপ এক অন্য মাত্রা নেয়। এছাড়া জয়পুরের জমজমাট বাজার থেকে ভাই-বোনের জন্য পছন্দসই উপহারও কিনে নিতে পারবেন।
২. মথুরা-বৃন্দাবন, উত্তর প্রদেশ
রাখি বন্ধন উপলক্ষে আপনি যদি কোনো আধ্যাত্মিক গন্তব্যের সন্ধান করেন, তবে মথুরা-বৃন্দাবন ভ্রমণের পরিকল্পনাটি এককথায় চমৎকার। সামনেই জন্মাষ্টমী, ফলে এই সময় পবিত্র শহরগুলির পরিবেশ থাকে উৎসবমুখর। বাঁকে বিহারী মন্দির, প্রেম মন্দির এবং ইসকন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি এখানকার বিখ্যাত পেড়া, লাচ্ছি এবং লোভনীয় স্ট্রিট ফুডের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
৩. নিম্রানা ফোর্ট প্যালেস, রাজস্থান
দিল্লি থেকে মাত্র ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিম্রানা ফোর্ট প্যালেসটি কম সময়ে রাজকীয় মেজাজে ছুটি কাটানোর জন্য অন্যতম সেরা ঠিকানা। আরাবল্লী পর্বতমালার কোলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুর্গটি থেকে চারপাশের মনোরম দৃশ্য এক নিমেষে সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেবে। এখানকার রাজকীয় আভিজাত্য, সুন্দর পরিবেশ এবং সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আপনার শর্ট ট্যুরকে স্মরণীয় করে রাখবে।
৪. ল্যান্সডাউন, উত্তরাখণ্ড
ভাই-বোনের যদি কোলাহল এড়িয়ে সবুজ প্রকৃতি ও শীতল বাতাসে সময় কাটানোর শখ থাকে, তবে উত্তরাখণ্ডের ল্যান্সডাউন আপনার জন্য নিখুঁত গন্তব্য। দিল্লি থেকে প্রায় ২৫0 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পাহাড়ি শহরে অন্যান্য জায়গার মতো অতিরিক্ত ভিড়ভাট্টা হয় না। ফলে শান্ত পরিবেশে হিমালয়ের শৃঙ্গ দেখা, হ্রদে নৌকাবিহার কিংবা দেবদারু বনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা এক দারুণ প্রশান্তি দেবে।
৫. ঋষিকেশ, উত্তরাখণ্ড
আপনাদের দু’জনের জনই যদি রোমাঞ্চ এবং অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ হয়, তবে ঋষিকেশের থেকে ভালো বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরে রিভার র্যাফটিং এবং ক্যাম্পিংয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে। দিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে সন্ধ্যায় ত্রিবেণী ঘাটে বসে গঙ্গা আরতি দেখার অনুভূতি অত্যন্ত প্রশান্তিদায়ক ও মন ভালো করা। তাই আর দেরি না করে ব্যাগো গুছিয়ে ফেলুন আর ছুটির দিনগুলি উপভোগ করুন!