মায়ার জালে মোড়ানো থ্রিলার নাকি রাজনৈতিক বিতর্ক? নব্বইয়ের দশকের কলকাতা নিয়ে শিউরে ওঠার মতো সত্য ফাঁস!

‘না পাওয়ার রং নাও তুমি’, মধুজার ‘ডিপ সিক্স’ রাজনৈতিক বিতর্ক তোলে শহুরে রঙিন প্যালেটে
কলকাতার রং আসলে কেমন? কেউ বলবেন ইঁটের লাল, কেউ বা আবার বলবেন পিচের কালো রাস্তা কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন ধোঁয়া-ধোঁয়া ভোর। পরিচালক মধুজা মুখার্জির ছবি ‘ডিপ সিক্স’ ঠিক এই চেনা শহরকেই চিনিয়েছে এক সম্পূর্ণ নতুন ভিজ্যুয়াল প্যালেটে। সম্প্রতি বসুশ্রী প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখতে দেখতে মনে হবে সময় যেন হঠাৎ করেই দুই বা তিন দশক পিছিয়ে গিয়েছে।
ম্যাজিক রিয়লিজম ও নবারুণীয় কলকাতার ছোঁয়া: বাংলা চলচ্চিত্রে হরর বা ভৌতিক ঘরানার ছবি নিয়ে সিরিয়াস চর্চা খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু ভৌতিকতা ও জাদুবাস্তবতা (ম্যাজিক রিয়লিজম)-কে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই ছবি। ৯০-এর দশকের শেষ থেকে একুশ শতকের শুরুর দশকের ক্ষয়প্রাপ্ত ও ইন্ট্রোভার্ট কলকাতাকে যেভাবে পরিচালক পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শকদের নস্ট্যালজিয়া উস্কে দিতে বাধ্য।
তারকাদের অনবদ্য অভিনয় ও টেকনিক্যাল চমক: ছবির প্রতিটি শিল্পীই নিজেদের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন। তিলোত্তমা সোমের বাস্তবসম্মত অভিনয় থেকে শুরু করে ২০২২ সালে প্রয়াত অভিনেত্রী মায়া ঘোষকে চার বছর পর পর্দায় দেখা—এক অন্যরকম শিরশিরে অনুভূতি জাগায়। পাশাপাশি চন্দন রায়সান্যাল, সুমিত ঠাকুর, সুমন্ত মুখার্জি ও সৌমিত্র চ্যাটার্জির মতো প্রথিতযশা শিল্পীদের উপস্থিতি ছবিটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অভীক মুখার্জির ক্যামেরার কাজ এবং দেবজ্যোতি ঘোষের কালার গ্রেডিং এই ছবিকে এক অনন্য দৃশ্যকাব্যে পরিণত করেছে। সব মিলিয়ে, ৯০-এর দশকের কলকাতার আবেগ ও রহস্যে ভরপুর এই ছবি বাংলা সিনেমার দর্শকদের মনে গভীর দাগ কাটবে।