গড়ফায় নৃশংস ঘটনা: ফ্ল্যাট থেকে ডেকে নিয়ে ছাদে ৪ বছরের শিশুর ওপর পাশবিক অত্যাচার, পুলিশ খুঁজছে অভিযুক্তকে

জল খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে চার বছরের এক শিশুকে আবাসনের ছাদে নিয়ে গিয়ে অবাঞ্ছিত স্পর্শ করার অভিযোগ উঠল এক প্রতিবেশী প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার কলকাতার গড়ফা থানা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আতঙ্কিত শিশুটির পরিবার। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রৌঢ় পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের সঙ্গে গড়ফা এলাকার একটি আবাসনে থাকে চার বছরের ওই শিশুটি। বুধবার সকালে সে পাশের একটি ফ্ল্যাটে থাকা কাকার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তার কাকা বাড়িতে ছিলেন না। অভিযোগ, সেই ফাঁকেই ওই প্রৌঢ় শিশুটিকে দেখতে পান এবং জল খাওয়ানোর নাম করে তাকে কৌশলে আবাসনের ছাদে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির গায়ে অবাঞ্ছিতভাবে হাত দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিছুক্ষণ পর শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দ্রুত ছাদে ছুটে গেলেও তার আগেই অভিযুক্ত প্রৌঢ় সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপরই গড়ফা থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে পরিবার।

কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসএসডি) খন্ডবহালে উমেশ গণপত জানিয়েছেন, শিশুটির গায়ে হাত দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে এবং অপরাধীকে দ্রুত পাকড়াও করতে তদন্তকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন।

এদিকে, এই ঘটনার পর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিশুটির পরিবার। এত অল্প বয়সে এমন ভয়াবহ ঘটনার প্রভাব শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়তে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। শিশুকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে এবং আগলে রাখতে প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়ার কথাও ভাবছে পরিবার। গড়ফার মতো জনবহুল এলাকায় একটি আবাসনের ভেতর এমন ঘটনার খবর ছড়িয়েই পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত প্রৌঢ়কে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *