বার্ধক্য ভাতার টাকা সোজা দ্বিগুণ! পুরনো সব আবেদন বাতিল করে নতুন নিয়মে বড় ঘোষণা সরকারের

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। যদিও নতুন সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, চালু থাকা কোনো জনমুখী প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। বরং অন্নপূর্ণা যোজনা ও যুবশক্তির পাশাপাশি এবার বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির অনুদান আরও বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি এই সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি নিয়ে বেশ কিছু কড়াকড়িও শুরু হয়েছে।
বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি ও নতুন নিয়ম
এর আগে বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্ধক্য ভাতার পাশাপাশি বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা আরও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এই সমস্ত ক্ষেত্রে মাসিক অনুদান আরও ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ, এর ফলে এখন থেকে ভাতা বাবদ উপভোক্তারা প্রতি মাসে সরাসরি ২,০০০ টাকা করে পাবেন। তবে সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই বর্ধিত সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে। সূত্রের খবর, আগের সরকারের আমলের সমস্ত পুরনো আবেদন বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। নতুন করে জমা পড়া আবেদনগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পরেই চূড়ান্ত উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করবে প্রশাসন। তবে কবে থেকে এই নতুন আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সরকারি আপডেট সামনে আসেনি।
কবে থেকে মিলবে বর্ধিত ভাতার টাকা?
এর আগে গত মাসের শেষ দিকে সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানানো হয়েছিল, ১ আগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে বর্ধিত ১,৫০০ টাকার কিস্তি ঢুকে যাবে। কিন্তু নতুন করে আরও ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা হওয়ার পর কবে থেকে এই বর্ধিত হারে টাকা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন আবেদনপত্রগুলি হাতে পাওয়ার পর তা সঠিক উপায়ে যাচাই করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সেই কারণে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে এই নতুন বর্ধিত ভাতা চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকেই এই নতুন নিয়মে ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।