আধার কার্ডের গেরোয় চিকিৎসা শিকেয়! বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে টিকিট কাটতেই পেরোচ্ছে ৩ ঘণ্টা, চরম ভোগান্তি

আধার কার্ডের ভিত্তিতে আভা (ABHA) আইডি তৈরি বাধ্যতামূলক হওয়া এবং অন্যদিকে তীব্র কর্মী সঙ্কটের জেরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে টিকিট কাটতেই রোগীদের কমপক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রোগী মহলে।
আধার কার্ডের জেরে দীর্ঘ হচ্ছে লাইন
রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসার জন্য আধার কার্ডের ভিত্তিতে আভা আইডি তৈরি করা বাধ্যতামূলক। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের টিকিট কাটার সময় হাসপাতালের কর্মীরাই এই আইডি তৈরি করে দিচ্ছেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিটি টিকিটের পেছনে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।
কর্মী সঙ্কটে বন্ধ একাধিক কাউন্টার
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি এবং জিডি স্টাফ মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জন কর্মী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা মাত্র ১০০ জনের কাছাকাছি। কর্মী সঙ্কটের জেরে নতুন কাউন্টার খোলা তো দূরের কথা, আউটডোরের সমস্ত টিকিট কাউন্টার একসঙ্গে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টারে উপচে পড়ছে ভিড়।
এই চরম অব্যবস্থার কারণে আউটডোরের টিকিটের লাইন হাসপাতাল ভবন ছাড়িয়ে দীর্ঘ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী রাস্তা পর্যন্ত। রোদ, ঝড় বা বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।
এক রোগীর কথায়, “টিকিট করতেই এত সময় পেরিয়ে যাচ্ছে যে সঠিক সময়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় ডাক্তারবাবু চলে যাওয়ার পর ডাক্তার দেখানোর সুযোগ মিলছে, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।” দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা করাতে আসা সাধারণ মানুষ।