ফুটপাত দখল একটা ফ্যাশন!’-রাস্তা নিয়ে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্যে শোরগোল

কলকাতার ফুটপাথ দখলমুক্ত করা এবং শহরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে শিল্পপতিদের লগ্নির জন্য আকর্ষণ করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। এর মাঝেই ফুটপাথ দখলমুক্ত করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিটে এক ফুটপাথবাসিনী মহিলাকে সরে যাওয়ার জন্য ধমক দিতে দেখা গিয়েছিল পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। যদিও ওই মহিলার পুনর্বাসন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। এই আবহেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিন ফুটপাথ দখল প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সুরে দিলীপ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ফুটপাত দখল একটা ফ্যাশন। যাঁরা সেখানে থাকেন, তাঁদের সুবিধার থেকে রাজনৈতিক লাভ এখানে বেশি। সেই কারণেই ফুটপাতে বসবাস কোনো দিনই বন্ধ হয় না।’
কলকাতার রাস্তায় পথচারীদের সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রীর প্রশ্ন, দিন দিন শহরে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, অথচ মানুষের হাঁটার জায়গা নেই। এর ওপর যদি ফুটপাত দখল করে কেউ ফল বা পান বিক্রি করেন কিংবা দুধ গরম করার মতো কাজ করেন, তবে সাধারণ মানুষ হাঁটবে কোথায়?
অহেতুক এই ইস্যু নিয়ে বিরোধী দলগুলি রাজনীতি করছে বলেও দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, ‘এভাবে চলতে পারে না। বিরোধীরা বুঝতে পারলে তো তাঁদের রাজনৈতিক দোকান চলবে না। বিরোধীরা বুঝুন বা না বুঝুন, তাতে কিছু যায় আসে না। শেষ কথা বলবেন সাধারণ মানুষই।’
উল্লেখ্য, পার্ক স্ট্রিটের সেই ফুটপাথবাসী মহিলা মঙ্গলবার সোজাসুজি ‘মুখ্যমন্ত্রী র দরবারে’ হাজির হয়েছিলেন। ওই মহিলা এবং তাঁর পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কলকাতা পুরসভাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘আমিও গতকাল নিউ মার্কেটে গিয়েছিলাম। যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন, তাঁরা আমার গাড়ির কাছেও এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। সবাই পরিস্থিতি বুঝে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত। সরকারও আবেদন করছে। ধীরে ধীরে সবাই নিজেকে ঠিক করছেন এবং রাস্তা পরিষ্কার করছেন। তবে এই কাজ সম্পন্ন হতে একটু সময় লাগবে।’