‘মায়ের এই আত্মবিশ্বাস না থাকলে সন্তান মানুষই হবে না!’ মাতৃত্ব নিয়ে বড় বোমা ফাটালেন অনুষ্কা শর্মা!

মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার পর যেকোনো নারীর জীবনেই আসে বিরাট পরিবর্তন। নিজের কেরিয়ার, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা ব্যস্ততাকে দূরে সরিয়ে তখন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে একমাত্র সন্তান। বলিউড ডিভা অনুষ্কা শর্মা-র (Anushka Sharma) ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা বিরাট কোহলি-র (Virat Kohli) সঙ্গে যৌথভাবে সন্তান লালন-পালনের এই দীর্ঘ যাত্রায় অনুষ্কা এমন কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাঁকে কেবল আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তোলেনি, বরং নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখতে শিখিয়েছে।
মাতৃত্ব কীভাবে পাল্টে দিল অনুষ্কাকে?
২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মাতৃত্ব এবং অভিভাবকত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন অনুষ্কা শর্মা। তাঁর মতে, মা হওয়ার পর তিনি নিজের মধ্যে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস এবং সাহস দেখতে পেয়েছেন। কারণ, সন্তানকে বড় করে তোলার প্রতিটি পদক্ষেপে এমন কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেখানে নিজের বিচারবুদ্ধি ও অন্তরাত্মার ওপর শতভাগ ভরসা রাখা ছাড়া উপায় থাকে না। অনুষ্কার সাফ কথা, একজন অভিভাবক হিসেবে নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখাটাই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
কেন কাজের গতি কমিয়েছিলেন অনুষ্কা?
২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে জন্ম হয় বিরাট ও অনুষ্কার প্রথম কন্যা ভামিকার। মেয়ের ছোটবেলায় তার সমস্ত প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে নিজের কেরিয়ারের ব্যস্ততা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই সময়ে বিরাট এবং অনুষ্কা দুজনেই একমত হয়েছিলেন যে, ভামিকার জীবনে মায়ের সান্নিধ্য ও উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি জরুরি। যদিও বাবা হিসেবে বিরাটও সমস্ত দায়িত্ব সমানভাবে পালন করেছেন, তবুও শিশুর বয়স ও মানসিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মায়ের ভূমিকা যে সেই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অনুষ্কা।
পারফেক্ট অভিভাবক হওয়ার ইঁদুরদৌড় নয়
অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন প্রত্যাশা এবং অন্য পরিবারের সঙ্গে তুলনা প্রায়ই বাবা-মায়েদের মনে অপরাধবোধ বা চাপের সৃষ্টি করে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অন্যের জীবন দেখে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ করা খুব সাধারণ বিষয়। তবে অনুষ্কার পরামর্শ হলো, বাইরের মানুষের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা না করে নিজের পরিবার এবং সন্তানের জন্য কোনটি সেরা, তা বুঝে এগোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
মাতৃত্ব তাঁকে যে সাহস জুগিয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতিতে। কখনো কোনো কাজে ‘না’ বলা, কখনো নিজের পুরনো সিদ্ধান্ত বদলানো, আবার কখনো চারপাশের লোককথার তোয়াক্কা না করে সন্তানের প্রকৃত চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো কঠিন কাজগুলোই একজন মানুষকে প্রকৃত অভিভাবক করে তোলে। সব মিলিয়ে অনুষ্কার বার্তা একটাই— নিখুঁত বা পারফেক্ট মা-বাবা হওয়ার চেষ্টা না করে, সন্তানকে মন দিয়ে বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাসটাই আসল।