পোস্ট অফিসের এই জনপ্রিয় স্কিমে বিনিয়োগ করলেই মিলবে মাসে ৯,২৫০ টাকা! জেনে নিন সুদের হার ও নিয়মাবলী।

শেয়ার বাজারের চরম অস্থিরতা ও আর্থিক ঝুঁকির চিন্তা বাদ দিয়ে নিরাপদ স্থানে বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে নিশ্চিত আয় করতে চান অনেকেই। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের সুরক্ষায় কেন্দ্র সরকারের এমন এক দারুণ স্কিম রয়েছে, যেখানে এক টাকাও ডুব যাওয়ার ঝুঁকি নেই। পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিম (Post Office MIS)-এ সঠিক উপায়ে বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৯,২৫০ টাকা পর্যন্ত সুদ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মূল হাইলাইটস (Key Highlights)

  • নিরাপদ ও নিশ্চিত রিটার্ন: সরকারি স্কিম হওয়ায় এখানে বাজারের কোনো ঝুঁকি বা আর্থিক অনিশ্চয়তা নেই।

  • বিনিয়োগের সীমা: একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৯ লাখ টাকা এবং যৌথ অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।

  • আকর্ষণীয় সুদের হার: বর্তমানে এই স্কিমে ৭.৪ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে।

  • মাসের মাস আয়ের সুবিধা: ফিক্সড ডিপোজিটের মতো এতে প্রতি মাসেই সুদের টাকা হাতে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিনিয়োগের অঙ্ক ও সুদের হিসাব

পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিমে একজন একক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রাখতে পারেন। তবে যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই জমার পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা সম্ভব। বর্তমানে সরকার এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে ৭.৪ শতাংশ বার্ষিক সুদের হার প্রদান করছে।

নিয়ম অনুযায়ী, যৌথ অ্যাকাউন্টে এককালীন ১৫ লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে সুদ বাবদ মিলবে ৯,২৫০ টাকা। অর্থাৎ, বার্ষিক ১.১১ লাখ টাকা এবং পুরো ৫ বছরের মেয়াদ শেষে মোট ৫.৫৫ লাখ টাকা শুধু সুদ হিসেবে আয় করা সম্ভব। এছাড়া ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আপনার মূল জমার পুরোটাই ফেরত দেওয়া হবে।

অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম ও ন্যূনতম শর্ত

মাত্র ১,০০০ টাকার ন্যূনতম ডিপোজিট দিয়ে যে কেউ এই মান্থলি ইনকাম স্কিম অ্যাকাউন্ট চালু করতে পারবেন। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যে কোনো ভারতীয় নাগরিক এই স্কিমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। আমানতকারীরা প্রতি মাসেই তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সুদের টাকা তোলার সুবিধা পান। এছাড়া প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবেও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা যায়।

মেয়াদপূর্তির আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধের নিয়ম

এই স্কিমের মোট মেয়াদকাল ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষ কোনো প্রয়োজনে মেয়াদের আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে টাকা তোলার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ডাকঘরের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সামান্য চার্জ কেটে নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, মনে রাখা প্রয়োজন যে সরকারের নীতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তিত হতে পারে, যার ফলে মাসিক আয়ের পরিমাণেও তারতম্য ঘটতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *