বদল আসছে মোদি সরকারে! ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন ও বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোরালো প্রস্তুতি।

বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদলের পর এবার সরাসরি নজর পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায়। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং আসন্ন বিধানসভা ভোটগুলিকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নতুন মুখ, শরিক দলগুলির সুষম প্রতিনিধিত্ব, মন্ত্রীদের বয়স এবং রাজনৈতিক সমীকরণ—একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখেই এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মোট ৬৯ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতীয় সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ৮১ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। এর ফলে বর্তমানে মন্ত্রিত্বের ১২টি পদ ফাঁকা রয়েছে, যা নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করার এক বিরাট সুযোগ তৈরি করেছে।
বিজেপির কঠোর ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারণে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রীর সরকারি ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি হিসেবে যথাক্রমে হর্ষ মালহোত্রা ও পঙ্কজ চৌধুরী দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁদের পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালকে দলের কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। ঠিক একই কারণে স্মৃতি ইরানি, বিনোদ তাওড়ে, সতীশ পুনিয়া এবং তরুণ চুঘের মতো নেতারা সম্ভাব্য মন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের দলীয় সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় পালাবদলের এই প্রক্রিয়া অবশ্য ইতিমধ্যেই আংশিক শুরু হয়ে গিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এ ছাড়া রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জর্জ কুরিয়েন এবং রেল প্রতিমন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টুও মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন। আগামী দিনে আরও কয়েকজন মন্ত্রীর রাজ্যসভার মেয়াদ শেষের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিমন্ত্রী বি এল বর্মার বর্তমান মেয়াদ নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা, যা এই রদবদলকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
প্রধান হাইলাইটস:
-
খালি পদের সুযোগ: বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ১২টি পদ শূন্য থাকায় নতুন মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
-
সংগঠন বনাম সরকার: বিজেপির ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারণে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর দলীয় দায়িত্ব ও সরকারি পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
-
বয়স ও তারুণ্যের সমীকরণ: মন্ত্রিসভায় প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ ও মহিলা মুখের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
-
রাজনৈতিক সমীকরণ: উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত সহ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে এই রদবদল করা হচ্ছে।