সেবায়তদের হাতে সরাসরি নয়, ভক্তদের দানে কড়া নজর! বৃন্দাবন মন্দির মামলায় বড় রায় শীর্ষ আদালতের

বৃন্দাবনের বিখ্যাত বাঁকে বিহারী মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান এবং তহবিলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, মন্দিরে আসা অনুদানের প্রতিটি পয়সা কোনো মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তির হাতে না গিয়ে সরাসরি হয় দানবাক্স অথবা অনলাইন মাধ্যমের মাধ্যমেই একমাত্র মন্দিরের কোষাগারে পৌঁছাতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের কঠোর বার্তা বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ শুনানিতে স্পষ্ট করে দেয় যে, এই প্রক্রিয়ায় সেবায়ত বা মন্দিরের কোনো সেবকের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভক্তরা মন্দিরে এসে দেবতার উদ্দেশ্যে যে অর্থ দান করেন, তা সরাসরি দেবতার কোষাগারে জমা হওয়া আবশ্যক। এর আগে ভান্ডাররক্ষক বা অন্য কোনো মাধ্যমের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের যে পদ্ধতি প্রচলিত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

বিরোধ ও আইনি প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, বাঁকে বিহারী মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, রীতিনীতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া চলছে। উত্তর প্রদেশ সরকারের আনা ‘উত্তর প্রদেশ শ্রী বাঁকে বিহারী জি টেম্পল ট্রাস্ট অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’ এবং মন্দিরের ঐতিহাসিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাকে ঘিরে একাধিক আইনি প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট মন্দিরের দৈনন্দিন কাজকর্ম, ভক্তদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলি তদারকি করার জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক কুমারের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করে দিয়েছিল।

এদিনের শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শ্যাম দিভান মন্দির তহবিলের ব্যবহার এবং সম্পত্তি ক্রয় সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আদালত জানিয়েছে যে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের উৎস এবং ভক্তদের নিরাপত্তা ও দর্শনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়গুলিও আইনি কাঠামোর মধ্যে গুরুত্ব সহকারে বিচার করা হবে। শীর্ষ আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশের ফলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের আর্থিক লেনদেন এবং অনুদান গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যে আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *