পিয়ন-ড্রাইভারের সন্তানরাও কি সংরক্ষণের বাইরে? ওবিসি ক্রিমি লেয়ার মামলায় মোক্ষম মোড়

ওবিসি ক্রিমি লেয়ার (OBC Creamy Layer) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের গত ১১ মার্চের একটি আদেশ সংশোধন এবং তা স্পষ্ট করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের দাবি, শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশিকা দেশের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) সাধারণ নাগরিকদের ওপর সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে এই মুহূর্তে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণ মঞ্জুর করতে অস্বীকার করেছে। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সরকার কেবল ১১ মার্চের আদেশে পরিবর্তনই চাইছে না, বরং ক্রিমি লেয়ারের প্রচলিত সংজ্ঞাতেও বদল আনতে চাইছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান যুক্তি ও আশঙ্কা কেন্দ্রের তরফে সওয়াল করা হয়েছে যে, ১১ মার্চের ওই আদেশ বহাল থাকলে ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হবে। সরকারের মতে, যদি শুধুমাত্র বাবা-মায়ের বেতনের ওপর ভিত্তি করে ক্রিমি লেয়ার নির্ধারণ করা হয়, তবে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত পিয়ন, ড্রাইভার বা কেরানিদের সন্তানরাও এর আওতার বাইরে চলে যেতে পারেন। ফলস্বরূপ, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বর্গের জন্য গঠিত ইডব্লিউএস (EWS) এবং ওবিসি নন-ক্রিমি লেয়ার (NCL)-এর মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট তফাত থাকবে না।
কী ছিল ১১ মার্চের সেই নির্দেশ? প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ওবিসিদের মধ্যে ‘ক্রিমি লেয়ার’ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল পিতা-মাতার বেতন বা আয়ই একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। আদালত জানিয়েছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), ব্যাংক বা বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত অভিভাবকদের বেতন নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলেই তাঁদের সন্তানদের কেবল এই কারণে সংরক্ষণ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। বিচারপতি পি.এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ রায় দিয়েছিল যে, এই ধরনের বেতনভিত্তিক বৈষম্য সংবিধানের ১৪, ১৫ এবং ১৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতার অধিকারের পরিপন্থী।
আদালতের ওই রায়ের ফলে ২০১৬ সালের পর থেকে সিভিল সার্ভিসেস (CSE) পরীক্ষায় ক্রিমি লেয়ারের কারণে বাতিল হওয়া প্রায় একশো জন ওবিসি প্রার্থী স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ (DoPT) আদালতের রায়ের প্রয়োগ ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও স্পষ্টীকরণের আর্জি জানিয়েছে।