“আমাদের ভোটাধিকার কে কেড়ে নিচ্ছে?” অস্তিত্ব ও অধিকারের লড়াইয়ে অগ্নিগর্ভ দার্জিলিং ও কালিম্পং!

দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি জনপদে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মংপু, রোহিণী টোল গেট, দার্জিলিং সদর এবং পুলবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দেওয়াল জুড়ে এখন ছেয়ে গেছে প্রতিবাদের পোস্টার। স্থানীয়দের বড় অংশের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার গোর্খা ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে কালিম্পং জেলায় ১৪ হাজার ৪৪১ জন এবং দার্জিলিং জেলায় ৩৬ হাজার ৬৭৩ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কালিম্পং-১ ব্লক, লাভা, পেডং, গরুবথান থেকে শুরু করে দার্জিলিং-পুলবাজার, জোড়বাংলো-সুখিয়াপোখরি, মিরিক, কার্শিয়াং এবং রংলি-রংলিয়ট অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার পৃথক পরিসংখ্যান সামনে এনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। পোস্টারগুলিতে সরাসরি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং অবিলম্বে নাম পুনর্বহালের জন্য দ্রুত শুনানির দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় নাম না থাকা মানেই ভোটাধিকার চিরতরে হারিয়ে যাওয়া নয়। এর জন্য নির্দিষ্ট দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ এবং ASDD তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নথিপত্র জোগাড় ও নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর অসুবিধা দূর করতে স্থানীয় স্তরে বিশেষ শিবির করার দাবি উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রশাসন পুরো বিষয়টি নিয়ে সজাগ রয়েছে এবং যোগ্য কোনো নাগরিক যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধান হাইলাইটস:

  • প্রতিবাদের পোস্টার: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল জুড়ে পোস্টার ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

  • নাম বাদ পড়ার অভিযোগ: স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় হাজার হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

  • দ্রুত শুনানির দাবি: প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে দ্রুত শুনানি ও বিশেষ শিবিরের দাবি তোলা হয়েছে।

  • প্রশাসনের আশ্বাস: জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনো যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে না এবং ত্রুটি সংশোধনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *