রাজনীতি থেকে অবসরের জল্পনা তুঙ্গে! গডকড়ির বিস্ফোরক মন্তব্যের আসল সত্যিটা কী?

“এখন আর আগের মতো বেশি কাজ করতে পারি না, নতুন প্রজন্মকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত।” কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ির এই মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় গডকড়ির এই বক্তব্যকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে, তবে কি সক্রিয় রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা কমাতে চলেছেন তিনি?
নাগপুরের একটি অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে গডকড়ি জানান, প্রায় তিন দশক ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের মতো অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই কারণেই তিনি নতুন প্রজন্মকে কাজের সুযোগ ও দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বিজেপিতে সম্প্রতি বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তরুণ মুখগুলিকে সামনে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ঠিক এমন এক সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করে।
যদিও এই জল্পনা তৈরি হতেই নীতিন গড়কড়ির দপ্তর থেকে দ্রুত পরিস্থিতি স্পষ্ট করা হয়। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর ওই মন্তব্যের সঙ্গে রাজনীতি বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছাড়ার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। নাগপুরের যে অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য রেখেছিলেন, সেটি ছিল মূলত তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘লক্ষ্মণরাও মানকর ট্রাস্ট’-এর একটি অনুষ্ঠান। আদিবাসী এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করা এই সংস্থার পরিচালনার দায়িত্বই এবার নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। উন্নয়নমূলক কাজ থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই নেই, বরং আগামী দিনে দেশের নানা প্রান্তে পরিকাঠামো ও উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।