ইনস্টাগ্রাম রিল বানাতে গিয়ে ঘোর বিপাকে প্রেমিক! ৩,৪০০ চুমুর দাগ তোলার পর পুলিশ যা করল, জানলে চমকে যাবেন

মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র শহর থেকে সম্প্রতি এক অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। লাইক ও ভিউ পাওয়ার নেশায় এক যুবতী তাঁর প্রেমিকের চারচাকা গাড়িতে গুনে গুনে ৩,৪০০টি চুমুর লিপস্টিক মার্ক বা দাগ বসিয়ে দিয়েছেন। এমপি০৭ সিসি ৯৪৫২ নম্বরের এই বিলাসবহুল গাড়িটির মালিক আদিত্য শিখরওয়ার। দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই রোমান্টিক কাণ্ডটি ঘটানো হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটির একটি ভিডিও শুট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়। যুবকের সেই উদ্দেশ্য অবশ্য সফলও হয়েছিল, কারণ ইন্টারনেটে পোস্ট করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ৫.৫ মিলিয়নেরও বেশি ভিউ অর্জন করে। তবে এই ডিজিটাল স্টান্টটি নেটিজেনদের মধ্যে যতটা বিনোদন সৃষ্টি করেছিল, তা মোটেই ভালোভাবে নেননি স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তারা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে গাড়ির স্পষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখে গোয়ালিয়রের থাটিপুর থানার পুলিশ মুহূর্তের মধ্যে নড়েচড়ে বসে। গাড়িটিকে ট্র্যাক করে দ্রুত থানায় বাজোপ্ত করা হয়। পুলিশি জেরার মুখে আদিত্য শিখরওয়ার অকপটে স্বীকার করেন যে, ইনস্টাগ্রামে নিজেদের ফলোয়ার ও রিল ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তাঁরা এই অভিনব কিন্তু অদ্ভুত কাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে তাঁদের এই রোমান্টিক পাগলামিকে সামান্য বিনোদন হিসেবে মেনে নেওয়া হয়নি। উল্টো শাস্তিস্বরূপ গাড়ি মালিক আদিত্যকে নিজ হাতে গাড়ির বডি থেকে সমস্ত লিপস্টিকের দাগ পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়। এখানেই শেষ নয়, জনসমক্ষে গাড়ি বিকৃত করা এবং ট্রাফিক আইন ও জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁর নামে অতিরিক্ত ৫,৫০০ টাকার একটি মোটা অঙ্কের চালানও কাটা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একদল নেটিজেন পুলিশ প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করলেও, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মজা করে মন্তব্য করেছেন যে বর্তমান যুগে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য এভাবে হেনস্তা হওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ আবার রসিকতা করে জানতে চেয়েছেন যে একটানা এতগুলো চুমু দিতে গিয়ে ওই যুবতীর মুখ ব্যথা হয়েছিল কি না। সব মিলিয়ে এই ভাইরাল কিসিং কার কাণ্ডটি এখন গোটা দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের আলোচনার প্রধান খোরাক হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *