বঙ্গোপসাগরের বুকে ভয়ংকর বিপদ! বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় কাঁপবে ভারতের কোন কোন উপকূলবর্তী অঞ্চল?

বঙ্গোপসাগরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি বর্তমানে এক ব্যাপক এবং মারাত্মক ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাগরের তলদেশের পরিবর্তনশীল টেকটনিক প্লেট, বিপুল পরিমাণ জমা পলিমাটি এবং সমুদ্রতলের প্রাচীন ফাটলগুলি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে এই বিপদের আশঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি আইআইটি খড়্গপুরের গবেষকদের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর এবং উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গবেষকদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ওড়িশার পারাদ্বীপ, জগৎসিংহপুর ও সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে অদূর ভবিষ্যতে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই খবরটি নিয়ে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ মহলে শুরু হয়েছে গভীর উৎকণ্ঠা।

গবেষণায় প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও তথ্য থেকে জানা যায়, গত পাঁচ দশকের মধ্যে পারাদ্বীপ ও জগৎসিংহপুর অঞ্চলে আট থেকে দশটি মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে ৫.৮ মাত্রার একটি মাঝারি মানের ভূমিকম্পে এই উপকূলীয় জেলাগুলিতে প্রায় ২০০ জন মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এমনকি গত বছরও বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ভূত ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে কেঁপে উঠেছিল উপকূলের একাধিক এলাকা। বর্তমান ভূকম্পন মানচিত্র অনুযায়ী, পারাদ্বীপ এবং জগৎসিংহপুর অঞ্চলগুলিকে সিজমিক ‘জোন থ্রি’-র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তবে সাম্প্রতিক ভূগর্ভস্থ পরিবর্তনগুলির জেরে এই ঝুঁকির মাত্রা আরও অনেক বেশি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূতাত্ত্বিক ও ভূবিজ্ঞানীদের মতে, নির্ধারিত উচ্চতা এবং নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে অবাধে বহুতল ভবন নির্মাণ এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে কঠোরভাবে সুরক্ষাবিধি প্রয়োগ এবং নিয়মিত স্ট্রাকচারাল অডিটের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ওড়িশা মানবাধিকার কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অতীতে চিহ্নিত বহু বিপজ্জনক স্কুলবাড়ি কিংবা পারাদ্বীপের নেহরুবান্গলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উঁচু বাড়িগুলি এখনও পর্যন্ত ভাঙা হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

যদিও এই গুরুতর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, নতুন করে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে ভূমিকম্পরোধী বাড়ি বা পরিকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সরকারি উদ্যোগেও এই নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে ভবন তৈরি করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তার স্বার্থে এবং যে কোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে চিহ্নিত বিপজ্জনক পুরনো বাড়িগুলি দ্রুত ভেঙে ফেলার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের কাজ শুরু করেছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *