ইমরান খানের জন্য ঘুম হারাম কপিল দেবের! কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক?

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের জেলবন্দি দশা এবং অবনতিশীল স্বাস্থ্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের মহারথীরা। ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক কপিল দেব সহ বিশ্বের মোট ২১ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ইমরানের সুচিকিৎসা এবং মৌলিক মানবিক সুবিধার দাবি জানিয়েছেন। গত ছয় মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পাক সরকারকে চিঠি দিলেন প্রাক্তন অধিনায়করা। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁসের মতো একাধিক অভিযোগে আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও চিকিৎসায় অবহেলার খবর সামনে আসার পরেই আন্তর্জাতিক কাপ্তানরা এই পদক্ষেপ করেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে কপিল দেব এবং সুনীল গাভাসকর সহ ১৪ জন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে চিঠি লিখে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। গত সপ্তাহে সেই দলে আরও সাতজন প্রাক্তন অধিনায়ক যুক্ত হয়ে নতুন করে আবেদন জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আবেদন জানিয়েছে প্রাক্তনীরা। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে কপিল দেব স্পষ্ট জানান যে তিনি পাকিস্তানের আইনকানুন নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না, তবে একজন বন্দির ন্যূনতম মর্যাদা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ভারতের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কপিল বলেন, “আমরা সে দেশের আইন সম্পর্কে জানি না, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যে কেউ হোক না কেন, একজন বন্দির প্রতি বিনম্র আচরণ এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত। তাছাড়া তিনি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার।”তিনি আরও জানান যে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কোনো রাজনৈতিক জবাব পাওয়ার জন্য তারা এই চিঠি লেখেননি। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য, স্বাস্থ্যের অবনতিশীল পরিস্থিতিতে ইমরান যেন সঠিক চিকিৎসা পান তা নিশ্চিত করা। কপিল বলেন, “আমরা চাই তিনি সেরা চিকিৎসা পান। আমরা অন্য কিছু দাবি করছি না, কোনো জবাবও চাইছি না। আমরা কেবল অনুরোধ করছি [cite: 1.1.3য।” পাক ক্রিকেটারদের নীরবতা প্রসঙ্গে কোনো ক্ষোভ নেই কপিলেরইমরানের এই দুর্দিনে সে দেশের বর্তমান বা প্রাক্তন ক্রিকেটাররা মুখ না খোলায় তাঁদের প্রতি কোনো ক্ষোভ প্রকাশ করেননি ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ভারত অধিনায়ক। মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা স্মরণ করে কপিল জানান যে তিনি ব্যক্তিগত বন্ধু ও সতীর্থ হিসেবে ইমরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তবে পাকিস্তান নিবাসী ক্রিকেটারদের পরিস্থিতির কথাও তিনি বুঝতে পারছেন। কপিল বলেন, “আমি তাঁদের (পাক ক্রিকেটারদের) দোষ দিই না, কারণ তাঁরা পাকিস্তানে থাকেন এবং সেখানকার পরিস্থিতি আলাদা। তবে আমরা বাইরে থেকে দেখছি। আমি আমার বন্ধুকে সমর্থন করতে চাই, যাঁর সঙ্গে আমরা খেলেছি এবং যাঁর ক্রিকেট প্রতিভাকে আমরা শ্রদ্ধা করি।’ সর্বশেষ এই চিঠিতে ভারতের তিন কিংবদন্তি কপিল দেব, সুনীল গাভাসকর এবং দিলীপ বেঙ্গসরকার স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, অ্যালিস্টার কুক, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, নাসের হুসেন, স্যার ক্লাইভ লয়েড, অর্জুনা রানাতুঙ্গা এবং স্টিভ ওয়াহর মতো বিশ্ব ক্রিকেটের বরেণ্য ব্যক্তিত্বরাও এই আবেদনে শামিল হয়েছেন।