৩০০ কোটির বাংলোর মালিক অথচ ঘরে ফিরলেন অচেনা বাইকচালকের পিঠে চড়ে! গুরুগ্রামের জলমগ্ন ছবি ভাইরাল নেটদুনিয়ায়

গত সোমবার ভারী বর্ষণে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় হরিয়ানার গুরুগ্রাম। জলের নিচে তলিয়ে যায় শহরের একাধিক অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই চরম বিপদের দিনে ঘরে ফেরা যখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইউটিউবার মানস অরোরা। জলমগ্ন রাস্তায় গাড়ি ছেড়ে এক অচেনা বাইকচালকের সাহায্য নিয়ে অবশেষে নিজের DLF-এর বাড়িতে পৌঁছন তিনি। তাঁর এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মানস লেখেন, “গাড়ি কেনার পেছনে টাকা নষ্ট না করে সমস্ত পুঁজি স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করেছি। আজ এই মুষলধারে বৃষ্টির হাত থেকে আমায় উদ্ধার করে এক বাইকচালক আমার ৩০০ কোটি টাকার DLF ঠিকানার কাছাকাছি পৌঁছে দিল।” সঙ্গে তিনি জলমগ্ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি এবং বাইকের পেছনে চড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ক্লিপও শেয়ার করেন। তাঁর এই পোস্ট সামনে আসতেই হু হু করে তা ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।
এদিকে, এই ঘটনার পরই গুরুগ্রামের তথাকথিত অভিজাত এলাকার পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। ৩০০ কোটি টাকার এলাকায় এমন বেহাল জলনিকাশি ব্যবস্থা দেখে অনেকেই কৌতুক করেছেন। কেউ লিখেছেন, “জলমগ্ন এই এলাকা যেন একটি ওয়াটারফ্রন্ট অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স!” আবার অনেকেই শহরের এই জলাবদ্ধতার জন্য প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কটাক্ষ করেছেন। শুধু মানস অরোরা নন, সোমবারের বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে শহরের সাধারণ মানুষকে। জলের মধ্যে আটকে থাকা স্কুলবাসের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে এসেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসনও। মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট সমস্ত স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাস্তায় জমে থাকা জল নিষ্কাশন এবং পরিকাঠামো মেরামতির কাজের সুবিধার জন্য অফিস ও কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ করার অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তরফে সোমবার গুরুগ্রামে কমলা সতর্কতা বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন কোনো সতর্কতা না থাকলেও আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।