দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য! দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপে কী বললেন বিজেপি নেতা?

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের একবার নিজের চেনা মেজাজে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দুর্নীতি বিরোধী চিঠি থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দলবদল, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম—সব বিষয়েই কড়া ও স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

দলীয় স্তরে দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টানেন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের রাজ্য সভাপতি পার্টিকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য যা যা করণীয়, সেটাই করছেন। তবে নিজের বর্তমান ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন যে তিনি এখন দলীয় সংগঠনের দায়িত্বে নেই, বরং অন্য দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দিলীপ ঘোষ আরও বলেন যে দুর্নীতি কেবল নিচু তলাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং উচ্চ স্তরেও এর প্রভাব রয়েছে। রাজনীতিতে নেমে এই পঙ্কিল আবর্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবির থেকে অনেকেই দলে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং অতীতে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে। তবে দল এই বিষয়ে সজাগ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের জবাবে তিনি জানান যে রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্স এবং সরকারি আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। সাধারণ মানুষকে কিছুটা ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন যে এই মুহূর্তে বড় ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান বা বিয়ের মরসুম নেই, তাই সরকার দ্রুত এই সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করবে বলেই তিনি আশাবাদী।

তৃণমূলে আরাবুল ইসলামের সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে আরাবুল ইসলাম অতীতে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন এবং এখন ফের তৃণমূলে ফিরে আসছেন। এই ধরনের চরিত্রদের রাজনীতির আঙিনা থেকে দূরে রাখাই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভাঙড়ের অশান্তি, হিংসা এবং লুঠপাটের নেপথ্যে এই ধরনের ব্যক্তিরাই দায়ী বলে দাবি করে তিনি বলেন যে এদের রাজনীতি থেকেই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা উচিত।

পাশাপাশি, আসন্ন দুর্গাপুজোর আড়ম্বর ও জাঁকজমক প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এই বিজেপি নেতা। পুজোয় জাঁকজমক বা আনন্দ উদযাপনে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেই তিনি জানান। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন যে যেভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে নানা আয়োজন ও খাওয়াদাওয়া হয়, তেমনই পুজোর আনন্দও স্বাভাবিক। তবে এর পাশাপাশি পুজোর মূল রীতিনীতি এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। দিলীপ ঘোষের আক্ষেপ, বর্তমানে মূল পুজোটিই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। বামেদের আমলে দুর্গাপুজোকে শারদীয় উৎসবে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছিল এবং দুর্গা নামটি পর্যন্ত মুছে ফেলার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যারা দুর্গাপুজো করবেন, তারা যেন ধর্মীয় বিধান মেনেই পুজো করেন। অন্যথায় সারা বছর ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ইভেন্ট করার স্বাধীনতা সবার জন্যই রয়েছে, সেখানে কারো কোনও বাধা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *