দামের ঝাঁজে চোখে জল, চিনির পর হু হু করে দাম বাড়ছে পেঁয়াজের

দিন কয়েক আগে থেকেই দেশের খুচরো বাজারে চড়চড় করে বাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পেঁয়াজের দাম। সামনেই উৎসবের মরশুম শুরু হতে চলেছে, আর তার ঠিক আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সবজির দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের কপালে যেমন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তেমনই সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটেও টান পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা ও চর্চা চলছে, আর তার মধ্যেই আচমকা পেঁয়াজের দাম চটজলদি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও এক দফা বেড়ে গিয়েছে।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লি সহ দিল্লি-এনসিআর এবং দেশের একাধিক বড় শহরে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে চড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যক ও বাজারভিত্তিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে দিল্লি-এনসিআর থেকে শুরু করে প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র নাসিক এবং দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই পর্যন্ত পেঁয়াজের রেট হু হু করে লাফিয়ে বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির প্রধান পাইকারি বা আজ়াদপুর মণ্ডিতে পাইকারি দরে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরো সবজির বাজারগুলিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে একেবারে চড়া দামে, যা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ টাকা প্রতি কেজির কাছাকাছি পৌঁছেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, পেঁয়াজের অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র মহারাষ্ট্রের নাসিকেও গত মাত্র এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সবজির দামে এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে এবার নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রের তরফে খুব শীঘ্রই তাদের সংরক্ষিত বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ খোলা বাজারে ছাড়ার জোরালো প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

পেঁয়াজের এই লাগাতার দাম বৃদ্ধি এমন এক সংকটজনক সময়ে ঘটছে, যখন চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দ কিছুটা হলেও মাটি করে দিচ্ছে। দেশে গত কিছুদিন ধরে চিনির দাম যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রতি কেজি ৬৫ টাকা কিংবা দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে তার থেকেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাসের হিসাব কষলে দেখা যাবে, বাজারে চিনির দাম প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিনির এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনেও যথেষ্ট অস্থিরতা ও বিতর্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি চিনির বাড়তি দামকে বড় হাতিয়ার করে সরাসরি কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ ও নিশানা করছে। বিরোধীদের দাবি, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইথানল তৈরির জন্য আখের বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে, যার ফলে দেশে চিনির অভ্যন্তরীণ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে এবং তার জেরে চড়ছে চিনির দাম। যদিও কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *