হু হু করে চড়ছে পেঁয়াজের বাজার! মালদার চাঁচলে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে।

চিনির চড়া দামের পর এবার সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে বড় ধাক্কা দিল পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমুখী বাজারদর। সপ্তাহের প্রথম দিনেই মালদার চাঁচলের বিভিন্ন বাজারে আগুন দাম লক্ষ করা গেল। মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে একলাফে বেড়ে পেঁয়াজের দাম পৌঁছে গেছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। মাস তিনেক আগেও যে পেঁয়াজ মিলত ১৫ থেকে ১৬ টাকায়, হঠাৎ তার এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে মারাত্মক চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতারা।
খবর নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে ভিন রাজ্যে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে চাঁচলের বাজারে মূলত মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। দূরবর্তী রাজ্য থেকে লরিতে করে মাল আসার ফলে একদিকে যেমন পরিবহণ খরচ বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ। পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করলেও খুচরো বাজারে তা হাতবদল হয়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিকোচ্ছে।
এই লাগামছাড়া দামের ফলে সরাসরি কোপ পড়েছে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাধ্য হয়েই ক্রেতারা তাঁদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ কেনার পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন। এক কেজির জায়গায় আধ কেজি বা তারও কম পরিমাণে পেঁয়াজ কিনে বাজার সামলাতে হচ্ছে তাঁদের। হোটেল ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অসাধু মজুতদারি রুখতে প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত বাজারদর নিয়ন্ত্রণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
সংবাদের মূল হাইলাইটস
আকাশছোঁয়া দাম: মালদার চাঁচলের পাইকারি ও খুচরো বাজারে পেঁয়াজ বিকোচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে।
ফলন ও জোগান ঘাটতি: অতিবৃষ্টির কারণে ভিন রাজ্যে পেঁয়াজের ফলন মার খাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় জোগান কমে যাওয়াই দাম বাড়ার মূল কারণ।
পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি: মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পেঁয়াজ আসায় পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
জনজীবনে প্রভাব: রান্নার প্রধান এই উপাদানের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ ও হোটেল ব্যবসায়ীরা, বাধ্য হয়েই কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন ক্রেতারা।