“১৫X৫X৫ ফর্মুলাতেই কেল্লাফতে!”-কীভাবে পোস্ট অফিসের এই স্কিম আপনাকে কোটিপতি করবে?

ছোট ও মাঝারি সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে সুরক্ষিতভাবে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারি স্কিমগুলির জুড়ি মেলা ভার। এর মধ্যে পোস্ট অফিসের পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF) স্কিমটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কোনো ধরনের আর্থিক ঝুঁকি ছাড়াই এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেদের জন্য একটি বিশাল অঙ্কের তহবিল গঠন করতে পারেন। সঠিক নিয়ম মেনে বিনিয়োগ করলে এই স্কিম থেকেই কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তবে এর জন্য বিনিয়োগকারীদের পিপিএফ-এর বিখ্যাত ১৫X৫X৫ ফর্মুলাটি সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে।

নিরাপদ সঞ্চয়ের অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে পরিচিত পোস্ট অফিসের এই প্রকল্পে সরকার বর্তমানে বার্ষিক ৭.১ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় সুদ প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি, আয়কর আইনের ৮০সি ধারার আওতায় এই স্কিমে বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ট্রিপল ছাড় বা ইইই (EEE) সুবিধা, যার অর্থ হলো বিনিয়োগ করা অর্থ, অর্জিত সুদ এবং ম্যাচিউরিটির পর প্রাপ্ত সম্পূর্ণ টাকাই সম্পূর্ণ করমুক্ত। পিপিএফ অ্যাকাউন্টে সর্বনিম্ন মাত্র ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতি আর্থিক বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা করা সম্ভব।

কোটিপতি হওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে ১৫X৫X৫ ফর্মুলাটি নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে হবে। এই ফর্মুলার মূল ভিত্তি হলো পিপিএফ-এর নির্ধারিত ১৫ বছরের মূল ম্যাচিউরিটি সময়সীমা এবং পরবর্তীতে দুটি ৫ বছরের এক্সটেনশন বা মেয়াদ বৃদ্ধি। অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীকে একটানা ২৫ বছর ধরে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হবে।

হিসেব অনুযায়ী, কেউ যদি টানা ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা করে জমা করেন, তবে সেই মেয়াদের শেষে তাঁর মোট মূলধন দাঁড়াবে ২২.৫০ লক্ষ টাকা এবং ৭.১ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪০,৬৮,২০৯ টাকা। এরপর মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়িয়ে মোট ২৫ বছর পর্যন্ত এই বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে মোট জমাকৃত অর্থের পরিমাণ হবে ২৭.৫০ লক্ষ টাকা। দীর্ঘমেয়াদী এই চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুতে ২৫ বছর পর ওই বিনিয়োগকারীর মোট তহবিলের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাবে ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা। ফলে সামান্য অনুশাসন ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলেই কম ঝুঁকিতে জীবনকে আর্থিক নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *