শিক্ষার মানোন্নয়নে কোন বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য? পিছিয়ে থাকার কারণ খোলাসা করলেন শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করতে রাজ্যের সমস্ত জেলার ডিআই-সহ বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ স্টেট ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রীর মতে, এনসিইআরটি-র সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষর করতে চলেছে রাজ্য। এর মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সহায়তা পাবে পশ্চিমবঙ্গ। এছাড়া ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক বা এনসিএফ-এর পরামর্শ নিয়ে ২০২৮ সাল থেকে যে নতুন পাঠ্যক্রম চালু হবে, তার জন্য ইতিমধ্যেই একটি সিলেবাস কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বেসরকারি স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

কেন্দ্রীয় সরকারের ইউডাইস প্লাস (UDISE+) পোর্টালে তথ্য আপলোড না করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল পোর্টালে তাদের শিক্ষক ও পড়ুয়ার সংখ্যা বা পরিকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করছে না। এর ফলে পোর্টালে এমন ভুল ছবি ফুটে উঠছে যে নির্দিষ্ট কিছু স্কুলে কোনো পড়ুয়াই নেই, অথচ শিক্ষক রয়েছেন। অথচ সরকারি স্কুলগুলির ক্ষেত্রে এই তথ্য পূরণ করা বাধ্যতামূলক থাকায় কোনো সমস্যা হয়নি। পোর্টালে তথ্য আপডেট না করলে সেই সমস্ত বেসরকারি স্কুলের ইউডাইস প্লাস নম্বর বা স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য রাজনৈতিক প্রসঙ্গ

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন দীপক বর্মন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফ্যাসিবাদীদের গুলি মারার’ মতো স্লোগান লেখার বিষয়ে তিনি জানান, কারা এই কাজ করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে। পাশাপাশি, যারা ‘এন্টি ন্যাশনাল’, তাদের দেশকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে শেখার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, কলেজগুলির পরিচালন সমিতিতে বিজেপির বিধায়ক ও মন্ত্রীদের জায়গা দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের নিজস্ব পদ্ধতি ও নীতি রয়েছে এবং তাঁরা অন্যের পথে হাঁটতে নারাজ।

ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ (Key Highlights):

শিক্ষানীতিতে পিছিয়ে রাজ্য: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ রূপায়ণে কিছুটা পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করে তা পূরণে স্টেট ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে।

এনসিইআরটি-র সঙ্গে সমঝোতা: ২০২৮ সালের নতুন পাঠ্যক্রমের জন্য এনসিএফ এবং এনসিইআরটি-র সহায়তা নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

বেসরকারি স্কুলগুলির ওপর নজর: ইউডাইস প্লাস (UDISE+) পোর্টালে তথ্য জমা না দিলে বেসরকারি স্কুলগুলির লাইসেন্স বা কোড বাতিল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

অন্যান্য ইস্যু: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এবং কলেজ পরিচালন সমিতির রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী।

Editor001
  • Editor001

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *