সনু নিগমের ড্রয়িংরুমে বসে কে গেয়েছিলেন সেই ভাইরাল গান? বীরভূমের সাধারণ যুবকের স্টার হওয়ার নেপথ্যে কোন না বলা গল্প?

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের সিউড়ির এক সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সুমন মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর বাবা পুলক মুখোপাধ্যায় ছিলেন পেশায় পুলিশ কনস্টেবল। একার সীমিত উপার্জনে বিশেষভাবে সক্ষম বড় ছেলে এবং সুমনকে মানুষ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হতো পরিবারটিকে। তবে অভাবের সংসারের হাজারো টানাপোড়েন ও আর্থিক অনটন সুমনের গানের প্রতি অদম্য স্বপ্নকে দমাতে পারেনি। ছেলের এই প্রবল অনুরাগকে সম্মান জানাতে মা নিজের জমানো সামান্য অর্থ দিয়ে তাঁকে একটি হারমোনিয়াম কিনে দেন। মাত্র তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই শুরু হয় সুমনের বহুমুখী সঙ্গীত সাধনার পথচলা।
শিক্ষাজীবন ও প্রতিভার বিকাশ
সিউড়ি রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ থেকে স্কুলের গণ্ডি সফলভাবে পেরিয়ে সুমন উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় পা রাখেন এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পড়াশোনার সুবাদেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভার বিকাশ ঘটে আরও দ্রুত গতিতে। একের পর এক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি রাজ্যপালের হাত থেকেও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও নাছোড়বান্দা মানসিকতা, যা তাঁকে সাধারণ এক মফঃস্বলের গণ্ডি পেরিয়ে মুম্বইয়ের মায়ানগরীতে সনু নিগমের নিজস্ব আবাসে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ (Key Highlights):
ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্য নায়ক: সনু নিগমের সঙ্গে তাঁর ড্রয়িংরুমে বসে গান গেয়ে নেটপাড়ায় ঝড় তোলা ওই যুবক হলেন বীরভূমের সিউড়িরই সন্তান সুমন মুখোপাধ্যায়।
সংগ্রামের শুরু: পুলিশ কনস্টেবলের অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা সুমনের গান শেখার শুরুটা হয়েছিল মায়ের জমানো টাকায় কেনা একটি হারমোনিয়ামের হাত ধরে।
শিক্ষাগত পটভূমি: সিউড়ির স্কুলজীবন পেরিয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে নিজের সঙ্গীত প্রতিভাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি।
সাফল্যের স্বীকৃতি: ছাত্রাবস্থায় একের পর এক সাফল্যের পাশাপাশি রাজ্যপালের হাত থেকেও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছিলেন এই মেধাবী যুবক।