সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় হাইকোর্ট! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে নিয়ে আইনি লড়াইয়ে এবার কী মোড় এল?

সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার কী রায় বা আপডেট আসে, তা দেখেই পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হবে। আগামী ৩১ আগস্টের পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং তার আগে পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। যদি পুলিশ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ করে, তবে সুমিত আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া এখনও পর্যন্ত সুমিতের বিরুদ্ধে মোট কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে আবেদন জানান যে, যেহেতু একটি মামলায় সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন এবং শীর্ষ আদালত তাঁকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়েছে, তাই এই মামলার শুনানি আপাতত মুলতুবি রাখা হোক। তাঁর দাবি, সুমিত রায়ের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।
অন্যদিকে, সুমিত রায়ের আইনজীবী বিকাশ পাওহা আদালতে জানান যে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তিনি তদন্তে আটবার হাজিরা দিয়েছেন। প্রথম এফআইআর গত ৫ জুন এবং দ্বিতীয়টি ১৬ জুন দায়ের হয়। যার মধ্যে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ দিলেও একের পর এক অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিনই নতুন মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পরই আদালত শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, শালবনি জমি দুর্নীতি ও চাকরি মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই মামলাগুলিতে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং সেখান থেকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ ও গ্রেপ্তারির ওপর স্থগিতাদেশ পান।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ (Key Highlights):
শুনানি মুলতুবি: সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি এফআইআর মামলার শুনানি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি রাখল কলকাতা হাই কোর্ট।
রক্ষাকবচ ও নির্দেশ: আগামী ৩১ আগস্টের পর মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সুমিতের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।
সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ: সুমিতের আগাম জামিন খারিজের মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
একাধিক মামলা ও হাজিরা: আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, সুমিতের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি মামলা রয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যেই তদন্তে আটবার হাজিরা দিয়েছেন।