সাড়ে আট কোটি তরুণ বেকার! দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে নীতি আয়োগের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য

দেশের যুব সম্প্রদায়ের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সংস্থা নীতি আয়োগ। রবিবার নীতি আয়োগের প্রকাশিত ‘Reimagining Skilling for Viksit Bharat@2047’ শীর্ষক নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিশাল সংখ্যক তরুণ-তরুণী বর্তমানে পঠনপাঠন, চাকরি কিংবা কাজের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গেই যুক্ত নন।
২০২১ সালের ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভ বা এনএসএস-এর ৭৮তম রাউন্ডের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সেই সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের আট কোটি সত্তর লক্ষেরও বেশি তরুণ-তরুণী এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ কর্মহীন ও দিশাহীন অবস্থায় রয়েছেন। সমীক্ষায় কর্মক্ষম জনসাধারণকে মূলত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—স্কুল ও উচ্চশিক্ষার পড়ুয়া, সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী, কর্মহীন এবং প্রশিক্ষণহীন যুবসম্প্রদায় এবং নারীরা।
এর মধ্যে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে ওই ‘নিট’ বা প্রশিক্ষণহীন ও কর্মহীন যুবসম্প্রদায়। উপার্জন না থাকা এবং পড়াশোনার বাড়তি খরচের চাপে তাঁরা চরম কোণঠাসা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা এবং চাকরির বাজারের মধ্যে বিরাট অসঙ্গতি রয়েছে। দেশের মাত্র আট দশমিক পঁচিশ শতাংশ স্নাতক তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ চাকরি পেতে সক্ষম হন। ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব এবং বর্তমান শিল্পজগতের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার কারণেই শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেও কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার খরচ সামলাতেই হিমশিম খান, ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পেশাদারি প্রশিক্ষণ নেওয়া তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এর জেরে বাধ্য হয়ে অনেকে কম বেতনের চাকরি বেছে নেন অথবা সম্পূর্ণ বেকার থেকে যান। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই সংকট কাটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে নীতি আয়োগ। একই সঙ্গে ভর্তুকিযুক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা এবং ‘কাজের পাশাপাশি উপার্জনের সুযোগ’ তৈরির মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও রাখা হয়েছে এই রিপোর্টে।