আমেরিকায় মর্মান্তিক পরিণতি! পিৎজা ডেলিভারি করতে গিয়ে গুলিতে খুন পাঞ্জাবের যুবক, ৯ বছর পর দেশে ফিরল শুধু নিথর দেহ!

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকা পাড়ি দিয়েছিলেন পঞ্জাবের এক তরুণ। কিন্তু মার্কিন মুলুকে পিৎজা ডেলিভারির কাজ করতে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো ২৮ বছরের ওই যুবকের। মৃত যুবকের নাম গুরদীপ সিং, বাড়ি পঞ্জাবের কপুরথলা জেলার জাবোওয়াল গ্রামে। সুদূর আমেরিকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
কী ঘটেছিল নিউইয়র্কে? পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করছিলেন গুরদীপ। প্রায় ৯ বছর আগে তিনি দেশ ছেড়ে আমেরিকা যান। যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের ঋণ শোধ করতে এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছরেও আর দেশে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসা হয়ে ওঠেনি তাঁর।
নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে পিৎজা ডেলিভারির কাজ করার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে যে ডাকাতির উদ্দেশ্যেই গুরদীপের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। গুরদীপের বাবা পেয়ারালাল জানিয়েছেন, আমেরিকা যাওয়ার জন্য তাঁকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হয়েছিল। সেই ঋণ শোধ করার আগেই ছেলের এমন পরিণতিতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
প্রবাসী সংগঠনগুলির উদ্বেগ: ২৮ বছরের এই যুবকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নর্থ আমেরিকা পাঞ্জাবি অ্যাসোসিয়েশন (NAAPA)। সংগঠনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সতনাম সিং চাহাল বলেন, এই ধরনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখা যায় না। প্রতিবার এ ধরনের হামলায় একটি করে পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। আমেরিকায় বসবাসকারী শিখ ও পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মানুষরাও সেখানকার অন্যান্য নাগরিকদের মতোই পূর্ণ সুরক্ষার অধিকারী বলে দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
টেনেসিতে খুন গুজরাটি ব্যবসায়ী: শুধু গুরদীপই নন, আমেরিকার মাটিতে সম্প্রতি আরও এক ভারতীয় ব্যবসায়ী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দিন তিনেক আগে টেনেসির জ্যাকসনে ৬২ বছরের এক গুজরাটি ব্যবসায়ী সুরেশ পরশোত্তমদাস প্যাটেলকে তাঁর নিজের দোকানের ভেতর গুলি করে খুন করা হয়। খবর অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাঁর ১৯ বছরের মেয়েও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মুখোশ পরা এক দুষ্কৃতী ক্যাশ ড্রয়ার থেকে টাকা লুট করার পর তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছিলেন সুরেশ এবং ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তিনি নতুন ব্যবসা শুরু করেছিলেন।
বিশেষ আপডেট: বিদেশের মাটিতে ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কী অভিমত? কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত।