পুজো কমিটির সঙ্গে চরম প্রতারণা! বকেয়া টাকা না মেটানো বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর তালিকা প্রকাশ করছে ফোরাম

শারদোৎসব মানেই নামী-দামি বিভিন্ন সংস্থার কাছে তাদের ব্র্যান্ড প্রচারের সবথেকে বড় সুযোগ। এই সময়ে পুজোর মণ্ডপ বা স্টলগুলিতে বিজ্ঞাপন দিলে অল্প সময়ের মধ্যে তা বিপুল সংখ্যক মানুষের নজরে আসে। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর কিছু বিজ্ঞাপন এজেন্সি জমজমাট ব্যবসা করলেও পুজো কমিটিগুলিকে তাদের প্রাপ্য টাকা দেয় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। আর এই বকেয়া টাকা আদায় ও আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
চলতি বছরে সরকারি আর্থিক অনুদানের আওতা থেকে বাদ পড়তে চলেছে বেশকিছু পুজো উদ্যোক্তা। এমতাবস্থায় পুজোর বাজেট সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে ছোট-বড় সব পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা সীমিত হয়েছে। এই সুযোগে একশ্রেণির বিজ্ঞাপন এজেন্সি পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে মোটা টাকার চুক্তি করে হোর্ডিং বা গেটের বিজ্ঞাপন বসিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। টাকা না দিয়ে বছরের পর বছর ঘোরানো কিংবা সরাসরি টাকা দিতে অস্বীকার করার মতো ঘটনাও ঘটেছে আকছাড়। এর ফলে বিজ্ঞাপনের আয়ের বদলে গেট ও ব্যানার তৈরিতে উল্টো পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়েছে অনেক কমিটিকে।
তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু
এই প্রতারণা রুখতে এবং বকেয়া অর্থ উদ্ধার করতে এবার আসরে নেমেছে পুজো কমিটিগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
কলকাতা ও সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সিংহভাগ পুজো কমিটিকে এই প্রতারক এজেন্সিগুলির তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
-
কোন এজেন্সির কাছে কোন কমিটির কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তার সমস্ত হিসাব ও নথি তলব করা হয়েছে।
-
সমস্ত তথ্য যাচাই করে খুব শীঘ্রই ওই ‘ডিফল্টার’ বা প্রতারক বিজ্ঞাপন এজেন্সিদের একটি প্রকাশ্য তালিকা সামনে আনা হবে।
কী বলছেন ফোরামের সম্পাদক?
এই বিষয়ে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সম্পাদক অঞ্জন উকিল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁরা সরাসরি আইনি পদক্ষেপ করতে পারেন না বা কোনো কমিটিকে নির্দিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করতে বাধ্যও করতে পারেন না। তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা যে তালিকা প্রকাশ করবেন, তাতে সমস্ত পুজো কমিটি সতর্ক হতে পারবে। তাঁর কথায়, “যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কমিটিগুলির টাকা বকেয়া রাখছেন, তাঁদের কাছে এটাই শেষ সুযোগ। এখনই বকেয়া টাকা কমিটিগুলিকে মিটিয়ে দিন। না-হলে তালিকা প্রকাশ হয়ে গেলে কমিটিগুলি সচেতন হয়ে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতারক এজেন্সিগুলি আর বিজ্ঞাপনের ব্যবসাই করতে পারবে না।”
পুজোর আনন্দের আগে এই কড়া পদক্ষেপে বিজ্ঞাপন জগতের অসাধু চক্রে এখন থেকেই চরম কম্পন শুরু হয়েছে।
বকেয়া টাকা আত্মসাৎকারী এই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ফোরামের এই সিদ্ধান্তকে আপনি কতটা সমর্থন করেন? কমেন্টে জানান আপনার মতামত!