মাসে মাত্র ৫০০০ টাকা জমিয়ে পান ১০০ বছর পর্যন্ত লাইফ কভার! LIC-র এই দারুণ পলিসি সম্পর্কে জানেন কি?

দীর্ঘ মেয়াদে নিশ্চিত আর্থিক সুরক্ষা ও বিমা কভারেজ পেতে চাইলে সাধারণ মানুষের প্রথম ভরসা সবসময়ই লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC)। বাজারচলতি নানা স্কিমের মধ্যে বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘জীবন উমঙ্গ পলিসি’ (Jeevan Umang Policy)। এই পলিসিতে মাত্র সামান্য কিছু টাকা জমিয়েই আপনি পেতে পারেন দীর্ঘ ১০০ বছর পর্যন্ত বিমা কভার এবং নিশ্চিত আয়! রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই স্কিমে বিনিয়োগে কোনো আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কিতাও থাকে না।

জীবন উমঙ্গ পলিসির মূল আকর্ষণসমূহ:

  • দীর্ঘমেয়াদী কভার: এই পলিসিতে বিনিয়োগ করলে একেবারে ১০০ বছর পর্যন্ত লাইফ কভার পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য সারা জীবন ধরে প্রিমিয়াম জমা দিতে হয় না। বিনিয়োগকারী ১৫, ২০, ২৫ বা ৩০ বছরের যেকোনো একটি প্রিমিয়াম মেয়াদ বেছে নিতে পারেন।

  • নিশ্চিত রিটার্ন (Survival Benefit): প্রিমিয়াম জমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই এলআইসি নির্দিষ্ট সাম অ্যাসিওর্ডের ওপর প্রতি বছর ৮ শতাংশ করে রিটার্ন বা সারভাইভাল বেনিফিট দিতে থাকে, যা আজীবন চলতে থাকে।

  • কর ছাড়ের সুবিধা: আয়করের ৮০সি ধারা অনুযায়ী এই পলিসিতে বিনিয়োগে ছাড় পাওয়া যায়। পাশাপাশি ধারা ১০(১০ডি) অনুযায়ী ম্যাচুরিটি রিটার্নেও রয়েছে করমুক্তির সুবিধা।

  • লোন নেওয়ার সুবিধা: পলিসি চালুর মাত্র ২ বছর পরই এর বিপরীতে ঋণ বা লোন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিকল্প সুযোগ: সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা

কন্যা সন্তানের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার কথা ভাবলে কেন্দ্র সরকারের সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (Sukanya Samriddhi Yojana) একটি দুর্দান্ত বিকল্প। বর্তমানে এই স্কিমে ৮.২ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় সুদ মিলছে।

নিয়ম অনুযায়ী, এই স্কিমে ১৫ বছর পর্যন্ত নিয়মিত টাকা জমাতে হয় এবং অ্যাকাউন্ট খোলার ২১ বছর পর ম্যাচুরিটি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো অভিভাবক যদি প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা (বছরে ৬০,০০০ টাকা) করে এই স্কিমে জমা করেন, তবে ১৫ বছরে মোট ৯ লক্ষ টাকা জমা হবে। এর ওপর বর্তমান ৮.২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে হিসাব করলে ২১ বছর পর ম্যাচুরিটিতে মোট ২৭ থেকে ২৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তহবিল হাতে পেতে পারেন প্রাপক। তবে মনে রাখবেন, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী এই স্কিমের সুদের হার পরিবর্তনশীল।

আর্থিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত জরুরি নোট: আপনার সুনির্দিষ্ট আর্থিক লক্ষ্য, বর্তমান বয়স এবং ঝুঁকির ক্ষমতা (Risk Tolerance) অনুযায়ী সঠিক স্কিম বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Editor001
  • Editor001

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *