‘এই তেল খেলে তো ক্যান্সার হবে!’ হোটেল-দোকানে হানা দিয়ে কি দেখলেন আধিকারিকরা? জানলে চমকে উঠবেন

‘কোন ব্র্যান্ডের তেল ব্যবহার করেন?’, ‘এই তেল খেলে তো ক্যান্সার হবে’, ‘খাবার ঢাকা দেওয়া নেই কেন?’—একের পর এক এহেন তীক্ষ্ণ প্রশ্নেই এদিন হকচকিয়ে গেলেন ব্যবসায়ীরা। কালোবাজারি রোধে অভিযান চালানোর পর এবার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বাঁকুড়া শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে বড়সড় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও পুলিশ। খাবার তৈরির গুণগত মান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যবিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখলেন আধিকারিকরা।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বাঁকুড়া শহরেও রাস্তার ধারে ও বাজার এলাকায় গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, এই সমস্ত জায়গায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খাবার তৈরি এবং বিক্রি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই খাবার তৈরির জন্য শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক, কৃত্রিম রং এবং নিম্নমানের ভোজ্য তেল ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, রান্না করা খাবার দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় সাজিয়ে রাখার কারণে তাতে মাছি বসার মতো অস্বাস্থ্যকর দৃশ্যও সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই বেনিয়ম ও অনিয়ম রুখতেই এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ও পুলিশ। বাঁকুড়া শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন খাবারের দোকানে হঠাৎ হানা দিয়ে রান্নার প্রক্রিয়া ও ব্যবহৃত উপাদানের মান খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা। খোলা রাখা খাবারে মাছি বসা এবং নিম্নমানের তেল ব্যবহারের চিত্র দেখে বেশ কিছু দোকানে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
অভিযান চলাকালীন আধিকারিকদের একজন ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, “জানেন না খাবার চাপা দিয়ে রাখতে হয়? বাড়িতে কি খাবার আলগা রাখেন?” অন্য একটি দোকানে গিয়ে আবার তেল সংক্রান্ত কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে আধিকারিকদের বলতে শোনা যায়, “কোন ব্র্যান্ডের তেল ব্যবহার করেন? সর্ষের তেল কিংবা ভালো তেল ব্যবহার করুন, নিম্নমানের তেলে ভাজলে বড় বিপদ হতে পারে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটলে যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে শহরজুড়ে অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল খাবার বিক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।