অজিভূমে ঐতিহাসিক ইতিহাস! টেস্ট হেরেও কীভাবে ক্রিকেট বিশ্বে ঝড় তুলল বাংলাদেশ?

ঘরের মাঠে প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের মধুর প্রতিশোধ নিল অস্ট্রেলিয়া। ব্রিসবেনের পেস সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশকে এক ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ব্যাগি গ্রিনরা। প্রথম ইনিংসে টাইগারদের মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানে অলআউট করে দেয় স্বাগতিকরা। দুই ইনিংসে মোট ১০ উইকেট শিকার করে ম্যাচের নিরঙ্কুশ নায়ক হয়ে ওঠেন অভিজ্ঞ পেসার মিচেল স্টার্ক। তবে এই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করে ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখল বাংলাদেশ দল।
ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্ট হারের ধাক্কা সামলে আগুনে বোলিংয়ে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান মিচেল স্টার্ক। তাঁর বিধ্বংসী পেস আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৬৪ রানে শেষ হয় প্রথম ইনিংস। স্টার্ক একা নেন ৬টি উইকেট। এরপর ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও সুবিধা করতে না পারলেও, ক্যামেরন গ্রিন (৬৭) ও স্টিভ স্মিথের (৪২) ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে ২১০ রান তোলে অজিরা।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম দুজনেই ২৯ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংস। স্টার্কের ৪ উইকেটের পাশাপাশি প্যাট কামিন্স ও ন্যাথান লায়ন ৩টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়তে হলেও, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিরিজ ড্র করার এই অর্জন বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসী পথচলারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রইল।