কলকাতায় চরম মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ! গলায় পেঁয়াজের মালা পরে পথে নামল কংগ্রেস

“জয় বাবা ঠগবাজ” ও পেঁয়াজের মালা গলায়! মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে অভিনব বিক্ষোভে কংগ্রেস

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কোথাও ভগবান নরেন্দ্র মোদির ছবির সঙ্গে প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে ‘জয় বাবা ঠগবাজ’, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের গলায় ঝুলছে পেঁয়াজের মালা। বাংলার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আমলে চলা লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এমনই এক অভিনব ও নজরকাড়া প্রতিবাদে সামিল হল কংগ্রেস। শনিবার কলকাতার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি (INTUC)-এর সেবা দল।

মূল্যবৃদ্ধি ও ধর্মীয় রাজনীতি নিয়ে তোপ

শনিবার লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের বিপরীতে, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছে কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। সেবা দলের অভিযোগ, চিনি থেকে শুরু করে পেঁয়াজ ও ডাল—নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রীর দাম যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়ে চলেছে, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর সরকারের মন্ত্রী-নেতারা এসবের দিকে নজর না দিয়ে কেবল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতেই ব্যস্ত।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, বাজারদর নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে সরকার স্লোগান ও প্রচারের রাজনীতিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি, ভগবান রামের জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বসিয়ে এবং তাঁর নামে মন্দির তৈরির প্রক্রিয়ায় বিজেপি হিন্দু ধর্মের অপমান করছে বলেও অভিযোগ তুলেছে হাত শিবির।

স্লোগানে মুখরিত প্রতিবাদ সভা

এদিনের কর্মসূচি থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো স্লোগান ওঠে—“স্লোগান নয়, সস্তায় বাজার চাই; প্রচার নয়, মানুষের স্বস্তি চাই; ধর্মের রাজনীতি নয়, মানুষের অধিকার চাই।” আন্দোলনকারীদের সাফ বক্তব্য, ধর্মীয় আবেগ বা রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে মানুষের পেটের খিদে মেটানো যায় না।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সেবা দলের সভাপতি প্রমোদ পাণ্ডে জানান, বর্তমানে চিনি ও মুসুর ডালের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে চলে গিয়েছে এবং পেঁয়াজের দামও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তাঁর কটাক্ষ, এমন দিন দেখবে বলেই কি বাংলার মানুষ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছিল! সবমিলিয়ে কলকাতার বুকে কংগ্রেসের এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *