“ভারতে চিনি আমদানির দরজা খুলতেই…! “-পাক সংবাদমাধ্যমের দাবিতে বড় শোরগোল

দেশের বাজারে চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জোগান স্বাভাবিক করতে বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির দরজা খুলে দেওয়ার পর থেকেই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান। দেশটির একটি প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের বাজারে উদ্বৃত্ত চিনি রফতানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ইসলামাবাদকে জোরালো আর্জি জানিয়েছে পাকিস্তানের চিনিকল মালিকদের সংগঠন।
ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বহু দিন ধরেই শীতল এবং দুই দেশের সরাসরি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত ও বিমান যোগাযোগও। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারতের চিনি আমদানির সিদ্ধান্তকে পাকিস্তান নিজেদের অর্থনৈতিক লাভের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সদস্য চৌধুরী মহম্মদ ওয়াহিদ সরকারের কাছে এই আবেদন জানিয়েছেন।
পাক চিনিকলগুলির যুক্তি কী?
পাক শিল্প মহলের দাবি, বর্তমানে তাঁদের হাতে প্রায় ১২ লক্ষ টনেরও বেশি উদ্বৃত্ত চিনি মজুত রয়েছে। নতুন মরসুম শুরু হওয়ার আগে এই বিপুল পরিমাণ চিনি কলগুলির ওপর বড় রকমের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। আগামী দিনে আখের ফলন ভালো হলে এই মজুত আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের সময়মতো বকেয়া টাকা মেটানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভৌগোলিক সান্নিধ্যের কারণে দূরের দেশের তুলনায় ভারতে চিনি পাঠালে পরিবহণ খরচ কম হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।
ভারতের সিদ্ধান্ত ও বাস্তব চিত্র
দেশের বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উৎসবের মরসুমের আগে জোগান বাড়াতে ভারত সরকার গত ২০ অগাস্ট আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই আমদানির পথ ধরে আদৌ কি পাকিস্তানের চিনি এ দেশে প্রবেশ করতে পারবে? কারণ, এই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি চিনির বাণিজ্য সংক্রান্ত কোনো চুক্তি নেই। ফলে পাক চিনিকলগুলি যতই আর্জি জানাক না কেন, দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অনুমোদন ছাড়া তা বাস্তবায়িত হওয়া সহজ নয়। মোদ্দা কথা, ভারতের আমদানির এই ঘোষণা পাকিস্তানের কাছে সুযোগের বার্তা বয়ে আনলেও, এর বাস্তব রূপায়ণ নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।