সোনার খনিতে মর্মান্তিক ভূমিধস! মাটিচাপা পড়ে নিহত ১৩ শ্রমিক, তীব্র শোক

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি অবৈধ সোনার খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। গত বুধবার রাতের এই আকস্মিক বিপর্যয়ের পর গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নারিনো বিভাগের সরকারি সচিব ফ্রেডি গামেজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, খনিতে নিয়মিত কাজ চলাকালীন হঠাৎ করেই পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ বা ঢাল ধসে নিচে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর আছড়ে পড়ে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে মাটি ও পাথরের স্তূপে চাপা পড়েন খনি শ্রমিকরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলোম্বিয়া দেশটি এখনো গত ১০ আগস্টের শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ এবং তার জেরে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। স্মরণ করা যেতে পারে, ওই বিধ্বংসী ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৪। দেশটির ন্যাশনাল ইউনিট ফর ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ৩১৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষত না শুকাতেই দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে নতুন করে খনি ধসের এই প্রাণঘাতী ঘটনাটি ঘটল।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকারী দল এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে অপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে খনি খনন এবং যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অভাবের কারণেই এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত মে মাসের দিকে কুন্দিনামার্কা বিভাগে আইনসম্মতভাবে পরিচালিত একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই দুর্ঘটনায় ৯ জন শ্রমিকের প্রাণহানির পাশাপাশি ৬ জন আহত হয়েছিলেন। একের পর এক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দেশের খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাঁদের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত বা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রই কলম্বিয়ার প্রধান এবং সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। দেশের ভেতরে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খনি দুর্ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত, তখন অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সরকারের এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আবেদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।