‘দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে…’, JU-তে ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের হুঁশিয়ারি দিলীপের

বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে এবিভিপির (ABVP) সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনে জেনারেল বডির মিটিং চলাকালীন অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই আয়ত্তের বাইরে চলে যায় যে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ সামনে আসে, যার জেরে বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হন। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার জেরে যাদবপুরের রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ইকো পার্কে প্রাতর্ভ্রমণে গিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এদিন প্রাতর্ভ্রমণ সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত চড়া সুরে যাদবপুরের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে অতীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিকবার দেশবিরোধী স্লোগান ও কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল এবং তৎকালীন সময়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সেই দেশবিরোধীদের আড়ালে-আবডালে পুষে রেখেছিল। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, অতীতে যখনই এমন ঘটনা ঘটেছে, তখন কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে যেমন এসএফআই-এর (SFI) অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের লোকেরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল, ঠিক তেমনই যদি ভবিষ্যতে এই ধরনের দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা স্লোগান ফের শোনা যায়, তবে ক্যাম্পাসে আবারও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাতে দুবার ভাববে না তাঁরা। এর পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত রহস্যজনক ও তাত্পর্যপূর্ণ সুরে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন হয়েছে। সব কিছুই হবে। একটু অপেক্ষা করুন, ছ’মাস।’

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে যেখানে বিজেপি নেতৃত্ব এই ইস্যুতে সুর চড়াচ্ছে, অন্যদিকে যাদবপুরের এই অশান্তি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এবিভিপি সরাসরি বিজেপির কোনো আনুষ্ঠানিক ছাত্র সংগঠন নয় এবং যাদবপুরের এই ধরনের অভ্যন্তরীণ অশান্তির সঙ্গে বিজেপি সরাসরি জড়াবে না বা নাক গলাবে না। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও দিলীপ ঘোষের ঝাঁঝালো হুংকার এবং ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত বুধবার রাতের ওই ঘটনার পর পরই যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাম শিবিরকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ছাত্র রাজনীতি এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং দিলীপ ঘোষের এই ‘ছ’মাস অপেক্ষা করার’ হুঁশিয়ারির আসল অর্থ কী, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *