ভারত-ব্রাজিল মহাযুদ্ধের মাঝেই আরও এক চমক! বিশ্বকাপে চমক দেওয়া দল আসছে ভারতে

চলতি বছরের অক্টোবর মাস ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে ব্রাজিল ফুটবল দলের ঐতিহাসিক ভারত সফর এবং কলকাতা ও কোচির সম্ভাব্য ম্যাচ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এর মধ্যেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও এক বিরাট সুখবর সামনে এসেছে। ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আসন্ন আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচের পাশাপাশি ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচ্য দল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধেও একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ খেলতে চলেছে ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ অক্টোবর এই মেগা ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের মতো ভোজিনহারাও ভারতের কোন মাঠে খেলতে নামবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতা এবং কোচি—এই দুটি শহরের মধ্যে যেকোনো একটিকে এই ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, কলকাতার বিখ্যাত সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কিংবা কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে পারে ভারত ও কেপ ভার্দে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দিয়ে গোটা বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়েছিল কেপ ভার্দে। আফ্রিকার এই ছোট দেশের ফুটবল দল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকেও গোলশূন্য ড্র-তে আটকে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, নকআউট পর্বের রাউন্ড অফ ষোলোতে লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধেও অসামান্য লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছিল এই দল। নির্ধারিত সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে ম্যাচটি এক্সট্রা টাইম পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিল ভোজিনহারা। বিশ্বের বাঘা বাঘা দলগুলিকে কড়া টক্কর দেওয়া সেই শক্তিশালী কেপ ভার্দে দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়া ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেলেকাওদের এই মেগা ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে চরম উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। যদিও ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের কারণে ফিফা এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় ফুটবল মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা কিংবদন্তি ফুটবলার ভাইচুং ভুটিয়া। একটি প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট ছেড়ে কেন একটি প্রীতি ম্যাচকে এত বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি এই ম্যাচ বয়কটেরও ডাক দিয়েছেন। তবে এআইএফএফ তাদের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে। ফেডারেশনের মতে, ভারতীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের মেলে ধরার এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।
ব্রাজিল দলের আগমন এবং সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসে পৌঁছেছে। এই প্রতিনিধি দলে ব্রাজিলের পুরুষ জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইজার সার্জিও দিমাস দি এলিভিয়েরা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা টানা দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সল্টলেক স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ড, ড্রেসিং রুম এবং অন্যান্য পরিকাঠামো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘুরে দেখেন। স্টেডিয়ামের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। পরিদর্শনের পর রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান জানিয়েছেন যে, অতিথি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে এবং তারা এখানকার প্রস্তুতি নিয়ে পুরোপুরি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে ভারতের মাটিতে স্বাগত জানাতে এখন থেকেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচগুলির জন্য ভারতীয় ফুটবল দলের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হবে। কলকাতার মাটিতেই এই ট্রেনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জাতীয় দলের ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য ঘাম ঝরাবেন। ভারতীয় ফুটবলের এই নবদিগন্ত কতটা সাফল্য এনে দেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমী।