কর্মসংস্থান থেকে খরচের চাপ, PMI-এর আগস্টের রিপোর্টে কোন চিত্র উঠে এল?

দেশের বেসরকারি খাতের আর্থিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। এইচএসবিসি ফ্ল্যাশ ইন্ডিয়া পিএমআই (HSBC Flash India PMI) ডেটা অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসে ভারতের প্রাইভেট সেক্টরের প্রবৃদ্ধি কিছুটা ত্বরান্বিত হয়েছে। মূলত সার্ভিস বা পরিষেবা খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর ফলেই এই সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, যদিও একই সময়ে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণের গতি সামান্য মন্থর রয়েছে।

রিপোর্ট অনুসারে, আগস্ট মাসে এইচএসবিসি ফ্ল্যাশ ইন্ডিয়া কম্পোজিট পিএমআই আউটপুট ইনডেক্স (Composite PMI Output Index) বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪.৬-এ পৌঁছেছে, যা আগের মাস অর্থাৎ জুলাই মাসে ছিল ৫৪.৩। এই অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল পরিষেবা খাত। গত জুলাই মাসে এই খাতে বৃদ্ধির হার গত ৫৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে ঠেকেছিল, যা আগস্টে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন কাজের সুযোগ ও ব্যবসার পরিমাণ বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছে। আগস্ট মাসে উৎপাদন খাতের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলেও বৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। এই মাসে এইচএসবিসি ফ্ল্যাশ ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই (Manufacturing PMI) ৫২.৯-এ এসে দাঁড়িয়েছে। এইচএসবিসি-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলি আগস্টে নতুন অর্ডারের ক্ষেত্রে কিছুটা জোরালো বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বা রপ্তানি অর্ডারও গোটা বেসরকারি খাত জুড়ে বেশ শক্তপোক্ত অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চীন, সিঙ্গাপুর এবং জাপানের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশীয় পণ্য ও পরিষেবার প্রতি চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ও পরিষেবা উভয় খাতেই রপ্তানি বৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে।

আগস্ট মাসের সমীক্ষায় কর্মসংস্থানের বিষয়টি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক হিসেবে উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুনের পর এই প্রথম বেসরকারি খাতে নতুন চাকরি সৃষ্টির গতি যৌথভাবে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। মূলত পরিষেবা খাতের সম্প্রসারণই এই কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এইচএসবিসির প্রধান ভারত অর্থনীতিবিদ প্রাঞ্জুল ভাণ্ডারি (Pranjul Bhandari) জানিয়েছেন যে, শক্তিশালী পরিষেবা খাতের হাত ধরে সামগ্রিক বেসরকারি খাতের উৎপাদন প্রবৃদ্ধি মূলত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি আরও দুর্বল হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মন্থর উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও উৎপাদন এবং নতুন অর্ডার উভয়ই ইতিবাচক ধারায় রয়েছে, তবে তার গতি কিছুটা ধীর।

মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রেও কিছু স্বস্তিদায়ক খবর মিলেছে। আগস্ট মাসে সামগ্রিক ইনপুট খরচ বা উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়ার চাপ কিছুটা কমেছে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। তবে এর বিপরীতে কোম্পানিগুলি গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচ চাপিয়ে দেওয়ায় বিক্রয় মূল্য বা চার্জ ইনফ্লেশন গত এপ্রিল মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ব্যবসায়িক খরচ সামাল দিতে সংস্থাগুলি বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছে।

আগামী এক বছরের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে শিল্পমহলের আশাবাদ জুলাই মাসের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির উন্নতির ব্যাপারে প্রস্তুত রয়েছে উভয় খাতই। ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে নতুন অর্ডারের পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগস্ট মাসে সামগ্রিক ক্রয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী দিনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *