অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারে ঘনাচ্ছে বড় বিপদ! তরুণ চিকিৎসকদের জন্য কড়া বার্তা বিশেষজ্ঞদের

রোগ নিরাময়ের জীবনদায়ী অস্ত্র হিসেবে যার পরিচিতি, সেই অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামনে এক ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দিরে অনুষ্ঠিত ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস সোসাইটির ১৬তম বার্ষিক সম্মেলন ‘সিআইডিএসকন-২০২৬’-এর প্রাক্কালে তরুণ স্নাতকোত্তর রেসিডেন্ট ডাক্তারদের জন্য আয়োজিত বিশেষ কর্মশালায় এই বিষয়েই তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিকের সীমিত এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিক রোগ নির্ণয়কে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে হবে।
সম্মেলনের সহ-আয়োজক সভাপতি এবং অধ্যাপক ডঃ হর্ষ তোশনিওয়াল জানান, বর্তমান সময়ে জ্বর এবং বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল বা ঋতুজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ওষুধের কার্যকারিতা বাঁচিয়ে রাখতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন সম্পূর্ণ পরিহার করা একান্ত জরুরি। একই সঙ্গে, রোগীর সম্পূর্ণ রোগের ইতিহাস এবং যথাযথ ল্যাবরেটরি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিশিষ্ট ছত্রাকবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. এম. আর. শিবপ্রকাশ ছত্রাক সংক্রমণ ও ছত্রাক-প্রতিরোধী ওষুধের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের দিকটি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দাদ বা রিংওয়ার্মের মতো সাধারণ সংক্রমণও এখন অত্যন্ত জেদি রূপ ধারণ করেছে, যা সাধারণ মলমে সারছে না। গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত সব জায়গাতেই এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিফাঙ্গাল স্টিওয়ার্ডশিপ প্রোগ্রামগুলিকে আরও কঠোর করার সময় এসেছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনের ওপর জোর দিয়ে প্রখ্যাত অণুজীববিজ্ঞানী ডা. অঞ্জলি শেঠি জানান, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা তরুণ চিকিৎসকদের দৈনিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা মোকাবিলা করতে এবং রোগীদের উন্নত পরিষেবা দিতে বড় ভূমিকা নেবে। সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপরও এদিন বিশেষ জোর দেওয়া হয়।