একের পর এক হোটেলে আগুন, মৃত্যুর পর টনক নড়ল প্রশাসনের! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিল হতে চলেছে শহরের ৯ গেস্ট হাউস?

রাজ্যে পরপর দুই দিনে দুটি ভয়াবহ হোটেলের আগুনে ১৮ জনের প্রাণহানির পর অবশেষে চরম কড়া পদক্ষেপ করল দমকল কর্তৃপক্ষ। অগ্নি নিরাপত্তা বিধি পুরোপুরি উপেক্ষা করার গুরুতর অভিযোগে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকার মোট ৯টি গেস্ট হাউস ও ৪টি রেস্তোরাঁকে কঠোর ভাষায় শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে দমকল বিভাগ। কেন এই ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে না, নোটিসে সরাসরি সেই জবাব তলব করা হয়েছে।

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এই হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে পরিদর্শনের সময় অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এমনকি এর আগেও নিয়ম মেনে চলার জন্য এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা। কিন্তু বারবার নির্দেশিকা অমান্য করার ফলেই এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, গত কয়েকদিন আগে তারাপীঠের পর বুধবার কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন আবাসিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। জীবন বাঁচাতে কেউ বাথরুমে আশ্রয় নেন, কেউ আবার ব্যালকনি থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিট (SIT) গঠন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের খোঁজে তল্লাশি চলছে। জানা গিয়েছে, পলাতক মালিকের লিজ দেওয়া এক অভিযুক্ত আবু জাফরকে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, ওই মালিকের অন্য একটি হোটেল ‘যাপন’-এর দুই কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনার পর কলকাতার হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন জোরালো হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে লালবাজার ও প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *