মির্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের জের, কলকাতার বেআইনি হোটেলগুলিতে আজ থেকেই কড়া প্রশাসনিক অভিযান

মেট্রোপলিস কলকাতার বুকে একের পর এক বেআইনি হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের রমরমা নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আবাসিক ভবনে কীভাবে হোটেল চলছে এবং কীভাবে তার ট্রেড লাইসেন্স মিলল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্য সরকারের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে শহরের সমস্ত হোটেল এবং জনবহুল বাজারে শুরু হচ্ছে বিশেষ যৌথ অভিযান।
আজ থেকেই কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোয় গঠিত হয়েছে পৃথক পৃথক যৌথ তদন্ত কমিটি। এই কমিটিতে কলকাতা পুরসভা, দমকল বিভাগ, কলকাতা পুলিশ, কেএমডি এবং সিইএসসি-র পাশাপাশি বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে পুরসভার লাইসেন্স বিভাগকে। ফলে কোনো সংস্থায় তল্লাশি চালানোর সময় ঘটনাস্থলেই তাদের ব্যবসার বৈধতা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ অভিযানে মূলত যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে:
বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট বা এনওসি রয়েছে কি না।
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম এবং স্প্রিংকলার সচল ও পর্যাপ্ত কি না।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত এবং বাধামুক্ত এমার্জেন্সি এক্সিট ও সিঁড়ি রয়েছে কি না।
অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো বেআইনি নির্মাণ বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না।
বিপজ্জনকভাবে কোথাও দাহ্য সামগ্রী মজুত করা আছে কি না।
আবাসিক ভবন বা অন্য কোনো কাঠামো নিয়ম ভেঙে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।
শহরের বহু জায়গায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এই সমস্ত হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। কিন্তু অগ্নিনিরাপত্তা এবং আইনি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বহু প্রতিষ্ঠানই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ। আজকের এই ব্যাপক পরিদর্শনের মাধ্যমে সেই সমস্ত গাফিলতির চিত্র একযোগে সামনে আনবে প্রশাসন।