চিপ তৈরিতে বিপ্লব! গুজরাটের এই প্ল্যান্টে চালু হলো ১২ ঘণ্টার শিফট, বড় সিদ্ধান্ত মোদী-শাহের রাজ্যে

ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে এক ঐতিহাসিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুজরাট সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার মাইক্রন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের সানন্দ প্ল্যান্টে ১২-ঘণ্টার কর্ম-শিফট চালুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। গুজরাটে এটিই প্রথম কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের শিফট চালুর অনুমোদন, যা রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।
ওএসএইচ কোডের অধীনে বিশেষ অনুমোদন
পেশাগত সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ (ওএসএইচ) কোড, ২০২০-এর বিধানাবলীর আওতায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কোডটি রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কারখানাগুলিকে কিছু বিশেষ বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা দেয়, তবে শর্ত থাকে যে কর্মচারীদের সাপ্তাহিক কাজের মোট সময় কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত সীমার বেশি হবে না।
গুজরাটের শ্রম, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী কুঁয়ারজিভাই বাভালিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ব্যবসা করার সুবিধা এবং প্রতিপালন সহজ করাই এই কোডের মূল উদ্দেশ্য। তবে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে এই শিফট চালু করতে পারবে না; এর জন্য সরকারের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। কর্মীরা যাতে কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক চাপের মুখে না পড়েন, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
কেন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ১২ ঘণ্টার শিফট জরুরি?
সাধারণ কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ক্লিনরুম পরিবেশে এই উৎপাদন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালাতে হয়। চিপ অ্যাসেম্বলি এবং টেস্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় মেশিনগুলি দিনে ২৪ ঘণ্টাই চালু রাখতে হয়।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টগুলিতে ১২ ঘণ্টার শিফট একটি স্বীকৃত এবং অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। দীর্ঘ শিফটের কারণে বারবার শিফট পরিবর্তনের ঝামেলা কমে, ক্লিনরুমে প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায় এবং শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি প্ল্যান্টগুলির উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন থাকে। এর ফলে কর্মীরা সপ্তাহে কম দিন কাজ করলেও মোট কাজের সময় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর শর্তাবলী
শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে:
-
প্রাপ্তবয়স্ক কর্মচারীরা দিনে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন, তবে সাপ্তাহিক মোট কাজের সময় কোনোভাবেই ৪৮ ঘণ্টার বেশি হবে না।
-
বাকি দিনগুলি সবেতন ছুটি হিসেবে গণ্য করা হবে।
-
শুধুমাত্র যে সমস্ত কর্মচারী স্বেচ্ছায় লিখিত সম্মতি দেবেন, তাঁরাই কেবল এই ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
-
বিশ্রামের বিরতি সহ মোট কাজের সময় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না এবং এর সম্পূর্ণ রেকর্ড কোম্পানিকে সংরক্ষণ করতে হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী কান্তিলাল অমৃতিয়া জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জাতীয় কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর অধীনে ইতিমধ্যেই প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ৬টি বড় প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে গুজরাট, যা আগামী দিনে প্রায় ৫০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।